শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কালিয়াকৈর মিথ্যা ভিত্তিহীন ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মুকসুদপুরে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ: শর্ত ভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার লক্ষ্মীপুরে সিরিয়াল ভঙ্গকারী বাইকারকে তেল না দেওয়ায় দোকানীকে মারধর টিকা কেনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কী ঘটেছিল? হিন্দুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: সন্তোষ শর্মা মুন্সীগঞ্জ পৌর শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন নতুন বছরকে স্বাগতম – নার্গিস আক্তার মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেল ঢাকা-১৭ আসনে ৪টি মন্দির

ফুলবাড়ীতে তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত, বাড়ছে শীত জনিত রোগ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে বাড়ছে মতি জনিত রোগ। শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দীর্ঘ সময় ধরে ঘন কুয়াশা থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহনচালক, শিশু ও বয়স্করা।

দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জর হোসেন জানান, গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিনও বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।

এদিকে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ীর বাইরে কেউ তেমন বের হচ্ছেন না। সকার ১১টার দিকেও সূর্য্যরে মুখ দেখা যাচ্ছে না। রাস্তাঘাট থাকছে প্রায় জনশূূন্য। হাটবাজারে লোকজনের উপস্থিতি কমে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনকে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ঠান্ডার মধ্যে শ্রমজীবীরা মাঠেঘাটে কাজ করতে পারছেন না। কাজে নামলেও ঠান্ডার কারণে বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না। শীত জনিত রোগে আক্রান্তরা ভিড় করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ক্লিনিক ও স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে।

উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষিশ্রমিক পাতরাজ কিস্কু, জোৎস্না টুডু, রোজিনা হেম্ব্রম ইলিয়াস মুর্মু বলেন, ঘন কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডার কারণে কয়দিন থেকে কাজকাম বন্ধ রেখে বাড়ীতে অবস্থান করছেন। দু-চারজন মাঠে কাজে গেলেও তারা বেশিক্ষণ কাজ করতে না পেরে বাড়ী ফিরে আসছেন।
পৌর এলাকার বর্গাচাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহ ধরে যেভাবে কুয়াশা আর ঠান্ডা পড়ছে তাতে করে বোরো বীজতলাসহ শীতকালীন শাক-সবজি ক্ষেত রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, শীতার্তদের জন্য দুই কিস্তিতে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। সেই অর্থ থেকে প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টাকায় ৯৫০ টি কম্বল কেনা হয়েছে।একই সাথে জেলা থেকে ৩৪০ টি কম্বল পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই কম্বলগুলো দুস্থদের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কম্বল কিনে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে শীত জনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। তাদেরকে ঠান্ডা থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: