বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
ইরান সামরিক ও গোপন অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) দুই কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে জানান, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে নানা ধরনের গোপন ও সামরিক কৌশল সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রচারাভিযানের মতো পদক্ষেপও উপস্থাপন করেছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে তারা “যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত”।
সূত্রগুলো জানায়, ইরান নিয়ে বিকল্পগুলো আলোচনা করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, একজন ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থানের বিপরীতে গোপনে যে বার্তা দিচ্ছে, তার সঙ্গে একেবারে ভিন্ন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন মনে করলে সামরিক বিকল্প ব্যবহার করতে মোটেও ভয় পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই সূত্র সিবিএসকে আরও জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ায় সম্ভবত বিমান হামলা করবে। একই সঙ্গে ইরানের কমান্ড কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে সাইবার হামলার বিকল্পগুলোও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের দেশটি ত্যাগ করতে অথবা এমনভাবে প্রস্থান পরিকল্পনা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মার্কিন সরকারের সহায়তার প্রয়োজন না হয়।