বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
শাপলা চত্বরের মামলায় আত্মসমর্পণের ঘোষণা লতিফ সিদ্দিকীর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা সুপারিশ বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি দেশে ফেরা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন সাকিব আল হাসান কেন জাপানে এত ঘন ঘন শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়? এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন নির্ভুল মানচিত্রই উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কালিগঞ্জে গরুর ক্ষুরা ও পিপিআর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান নড়াইলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ, স্ত্রী আটক সর্বনাশা মাদকের থাবায় বিপন্ন সমাজ: গোপালগঞ্জে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক চৌদ্দগ্রামে এলজিইডির ৩০ সড়কে বেহাল দশা, চরম জনদুর্ভোগ

কেন জাপানে এত ঘন ঘন শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়?

বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম জাপান। দেশটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মূল কারণ, জাপান পৃথিবীর ভূত্বকের চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর ক্রমাগত সংঘর্ষ ও সরে যাওয়ার ফলে ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়, যা একসময় ভূমিকম্পের মাধ্যমে মুক্তি পায়।

এ ছাড়া জাপান অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার মাইল দীর্ঘ ‘রিং অব ফায়ার’-এ। বিশ্বের অধিকাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও বড় ভূমিকম্প এই অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

কুমামোতোতে শক্তিশালী ভূমিকম্প

সম্প্রতি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভূমিকম্পের পর একটি বিপণিবিতান আংশিক ধসে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া একটি কাগজ কারখানার কয়েকজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, “অনেক মানুষ এখনও সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।”

ইতিহাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প

জাপানের ইতিহাসে একের পর এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের নজির রয়েছে। ১৪৯৮ সালের এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

১৯২৩ সালের গ্রেট কান্তো ভূমিকম্পে রাজধানী টোকিওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। এতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

আর ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হন। একই সঙ্গে ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনারও সূত্রপাত ঘটে।

এছাড়া ২০২৪ সালে পশ্চিম জাপানের নোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে জাপান?

১৯৮০-এর দশক থেকে জাপান কঠোর ভবন নির্মাণবিধি চালু করে। ১৯৯৫ সালের কোবে ভূমিকম্পে দেখা যায়, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী নির্মিত ভবনগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরপর দেশটি ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পুরোনো ভবন সংস্কারে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। বর্তমানে নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ভূমিকম্প ও উদ্ধার মহড়ায় অংশগ্রহণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সামনে আরও বড় ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ১০ শতাংশ ভূমিকম্প জাপান বা এর আশপাশে সংঘটিত হয়। ফলে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের তুলনায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি।

জাপান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে নানকাই ট্রাফ এলাকায় ৮ থেকে ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ‘মেগাথ্রাস্ট’ ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। যদিও এই পূর্বাভাস নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সঠিক সময় আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সর্বদা প্রস্তুত থাকা, অবকাঠামোকে আরও ভূমিকম্প-সহনশীল করা এবং জনগণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সূত্র: সিএনএন


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: