বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
স্বাভাবিক সময়ে ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রতিদিন গড়ে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জমা থাকে সাত হাজারের মত। দৈনিক হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে তোলা হয় দুই থেকে আড়াই হাজার রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার।
টানা কর্মবিরতিতে বন্দরে কাজকর্ম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় এসব পণ্য আটকে থাকছে প্রতিদিনই। বন্দরের পাশাপাশি ডিপোগুলোতে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনারের চাপ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা তিন দিনের কর্মবিরতিতে কোনো রপ্তানি কন্টেইনার ডিপো থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি।
শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি চললেও মঙ্গলবার থেকে টানা কর্মবিরতি শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্র ও শনিবার দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়। এ ঘোষণার পর সন্ধ্যায় বন্দরের অপারেশনাল কাজ আবার শুরু হয়েছে।
কর্মবিরতিতে বন্দরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেটিতে অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হলেও বিদেশি অপারেটরের পরিচালনায় থাকা ‘পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে‘ কাজ চলে।
ডিপো মালিকদের সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯টি ডিপোতে সাড়ে ১৩ হাজারের মতো রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার টিইইউএস (প্রতিটি ২০ফুট দৈর্ঘ্যের) যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক খাতের।
আন্দোলনকারীদের বাধায় বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল- নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। টানা ছয় দিন ধরে বন্দরের কার্যক্রম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রোজাকে সামনে রেখে আমদানি পণ্য খালাস না হলে গ্রাহক পর্যায়েও এর প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) হিসাবে, আন্দোলন শুরুর আগে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে রপ্তানির অপেক্ষায় ছিল প্রায় ৮ হাজার একক কন্টেইনার। বৃহস্পতিবার বিকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৫০টিতে। বন্দর ও জাহাজে থাকা কন্টেইনার হিসাব করলে আরও কয়েক হাজার বাড়তি হবে।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রপ্তানিমুখী পণ্য ডিপোতে এসে কন্টেইনার ভর্তি করা হয়। পরে সেগুলো বন্দরে পাঠানো হয় জাহাজে তোলার জন্য। সারাদেশ থেকে পণ্য এসে কন্টেইনার বোঝাই হলেও তা বন্দরে তিন দিন ধরে পাঠানো যায়নি।
বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আন্দোলনের কারণে বাড়তি কন্টেইনার জমা হয়েছে। এগুলো জাহাজীকরণের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। এর চাপ গিয়ে সরাসরি পড়বে রপ্তানিকারকদের ওপর। তারা সঠিকসময়ে পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তৈরি পোশাক খাত সরাসরি ক্ষতির শিকার হয়েছে। রপ্তানি পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারলে পরবর্তী বছরে এর খেসারত দিতে হয়। এ খাতে প্রতিযোগী দেশগুলো এর সুযোগ নেয়।
দুদিন কর্মবিরতি স্থগিত থাকলেও ছয় দিনের জের এত সহজেই কাটবে না বলে মনে করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিগুলোতে বৃহস্পতিবার অপেক্ষমান ছিল ১০টি জাহাজ। বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল আরও ৯টি। এদিন বিকালে কর্মবিরতি স্থগিত হলেও বর্হিনোঙ্গর থেকে অপেক্ষমান কেনা হাজাজ বন্দরের জেটিতে আসতে পারবে না।