রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে আরও একবার নিজেদের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ প্রদর্শন করল ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসি।
ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে-যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পরই বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইরান। তাতে নৌবাহিনীর বিপুল পরিমাণ আত্মঘাতী ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেখানো হয়।
আইআরজিসি কমান্ডারদের মতে, এসব অস্ত্র প্রয়োজনে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ কার্যকর রাখা এবং পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব।
ভিডিওটি বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং এটি আইআরজিসির নৌবাহিনীর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ইরানের ‘মিসাইল সিটি’ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতর সারি সারি অস্ত্রভাণ্ডার রাখা আছে। সেখানে আত্মঘাতী ড্রোন নৌকা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ মাইন মজুত রয়েছে। ভিডিওতে এসব অস্ত্রের কিছু প্রস্তুত করা ও পরীক্ষামূলকভাবে ছোড়ার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি নৌ ড্রোন বোট ট্রেলারের ওপর রাখা অবস্থায় টানেলের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। এর ঠিক উপরে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি প্রতিকৃতি টানানো।
ইরানের নৌবাহিনীর আত্মঘাতী ড্রোনকে আনম্যানড সারফেস ভেহিকল (ইউএসভি) বলা হয়। এগুলোকে আগেও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় এসব ড্রোনের ভূমিকা ছিল।
ইউএসভি মূলত পানির উপর বা ঠিক নিচে চলাচল করে এবং এতে বিস্ফোরক ভরা থাকে। এগুলো কার্যত আত্মঘাতী বা কামিকাজে ধরনের মিশনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এসব ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করা তুলনামূলক কঠিন, বিশেষ করে রাতে। কারণ আকাশে উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও ঠেকাতে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তার অনেকগুলোই পানির উপর চলা এসব ড্রোনের ক্ষেত্রে ঠিকভাবে কাজ করে না।