বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সতর্ক বার্তা অসুস্থ বিরোধী দলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর-নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত লক্ষ্মীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে র‌্যালি ও সভা বরিশালে এসএসসি পরীক্ষার প্রক্সি দিতে গিয়ে যুবক আটক, ১ বছরের কারাদণ্ড ধনবাড়ীতে এক পরিবারের ৫ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় গৃহহীন এক পরিবার! সিরাজগঞ্জ থেকে লুট হওয়া ৬১০ বস্তা চাউল সহ ট্রাক কালিয়াকৈরে উদ্ধার, আটক -২ শিবালয়ে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে মাদক ব্যবসায়িকের হামলা চৌদ্দগ্রামে দূর্বৃত্তদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর

এআই ব্যয় বাড়ছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা মেটার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। এই ব্যয় সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মেটার মোট কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাই হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কবে থেকে ছাঁটাই শুরু হবে, তাও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানেন— এমন তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সিনিয়র ম্যানেজারদের এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন কোন বিভাগে কর্মী কমানো যায় তা খতিয়ে দেখতে।

তবে মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন, এ নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা অনুমাননির্ভর। এ মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তিনি নিশ্চিত করেননি।

যদি সত্যিই ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হয়, তবে এটি হবে মেটার ইতিহাসে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি। ২০২২ সালের শেষ এবং ২০২৩ সালের শুরুতে বড় পুনর্গঠন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তখন সময়টিকে তারা বলেছিল “ইয়ার অব এফিসিয়েন্সি” বা দক্ষতার বছর।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেটায় প্রায় ৭৯ হাজার কর্মী ছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। সেটি ছিল তখনকার মোট কর্মীর প্রায় ১৩ শতাংশ। এর চার মাস পর আরও ১০ হাজার চাকরি কমানোর ঘোষণা আসে।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জুকারবার্গ এখন জোর দিচ্ছেন জেনারেটিভ এআইয়ের ওপর। প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে শীর্ষ এআই গবেষকদের আকৃষ্ট করতে বিপুল পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কিছু প্যাকেজের মূল্য চার বছরে কয়েকশ কোটি ডলার পর্যন্ত।

মেটা জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার তৈরিতে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি এআই এজেন্টদের জন্য তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম মোলবুক অধিগ্রহণ করেছে তারা।

এ ছাড়া চীনের এআই স্টার্টআপ ম্যানাস কিনতে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথাও আগে জানিয়েছিল রয়টার্স। জুকারবার্গ মনে করেন, এআই ব্যবহারে কর্মদক্ষতা বাড়বে। তিনি বলেন, আগে যে প্রকল্পে বড় একটি দল প্রয়োজন হতো, এখন তা একজন দক্ষ কর্মী দিয়েও সম্ভব হচ্ছে।

শুধু মেটাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একই পথে হাঁটছে। এআই ব্যবহারের ফলে ছোট দল দিয়েও কাজ চালানো সম্ভব— এমন ধারণা থেকেই এ সিদ্ধান্ত।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যামাজন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। এটি তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ। গত মাসে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ব্লক-ও প্রায় অর্ধেক কর্মী কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি সরাসরি বলেছেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হওয়ায় কম কর্মী দিয়েও বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগে বড় কোম্পানিগুলোর কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: