সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
মানিক সরকার, গাজীপুর
পুলিশ বাহিনীর কেউ মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে বাহিনীতে রাখা হবে না। পুলিশে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত ও আইন অমান্যকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
গাজীপুর পুলিশ লাইনে শনিবার বিকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার।
আইজিপি বলেন, পুলিশের কিছু সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময়ও এ ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন। পুলিশে যারা এ সব অবৈধ কাজে জড়িত এবং আইন মানে না, তাদের এই বাহিনীতে থাকার সুযোগ নেই। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আইজিপি ওসিদের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে বলেন, অতীতে অনেক সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এলাকায় একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দেখা হতো, যা এখন আর চলবে না। পুলিশ সদস্যদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষ যেন সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইজিপি অতীতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অভিযোগকারী ও বিবাদী উভয় পক্ষ থেকেই অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা ছিল। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। সেই ইতিহাস থেকে পুলিশ বাহিনীকে শিক্ষা নিতে হবে, অন্যথায় জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে তাদের চিহ্নিত করা গেলে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যানজট নিরসনে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা না গেলে অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গাজীপুরে প্রায় ২০টি বস্তিতে মাদকের বিস্তার রয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ হাসান উদ্দিন সরকার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ দমন সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাজহারুল আলম, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্ট্রার ইসরাক আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামসুল হক ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা আহাম্মদ আলী রুশদী, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মন্ডলীর সদস্য দেলোয়ার হোসেন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, সদস্য সচিব ভিপি আসাদুজ্জামান নূর, মহানগর হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মুফতি নাসিরুদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহউদ্দিন, ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন সিরাজী, স্পারো অ্যাপারেলসের মালিক শোভন ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে বক্তারা শহরের যানজট নিরসন, টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই দমন, মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।