শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরে সিরিয়াল ভঙ্গকারী এক বাইকারকে তেল না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (১ এপ্রিল) জেলার দালাল বাজারের তোফায়েল এণ্ড সন্সে ঘটনাটি ঘটে। এবিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালক হলেন সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মিলনের ছেলে এমদাদুল হক ইমন। অভিযোগকারী হলের তোফায়েল এণ্ড সন্সের মালিক জিহাদুল ইসলামের বাবা ও ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ।
জানা গেছে, ঘটনার সময় সদর উপজেলার দালাল বাজারের তোফায়েল এণ্ড সন্স নামীয় তেলের দোকানে সিরিয়াল ভঙ্গ করে এমদাদুল হক ইমন নামেে এক যুবক একটি বোতল নিয়ে আসেন। এসময় দোকানে সিরিয়াল ভঙ্গ না করতে নিষেধ করেন। তবুও দোকানে প্রবেশ করে বোতলে তেল দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এতে অপরাগতা প্রকাশ করলে, দোকানদারকে মারধর করে ওই চালক। এসময় উপস্থিত অন্যান্য বাইকারদের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অভিযুক্ত। কিছুক্ষণ পুনরায় ঘটনাস্থলে দলবল নিয়ে এসে দোকানিকে মারধর করে। তখন দোকানদারকে বাঁচাতে কর্মচারি ও পাশ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসে। এসময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সিরিয়াল ভঙ্গ করায় দোকানি ও আমরাও নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক কোন কথা শুনেনি। উল্টো বোতলে তেল দিতে চাপ সৃষ্টি ও উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে। তাতেও তেল না দেওয়ায় দোকানদারকে দফায়-দফায় মারধর করে। শুনেছি ছেলেটি নাকি ছাত্রদল করে। এখন ছাত্রদল করলে কি সিরিয়াল ভঙ্গ করতে হয়। সিরিয়াল ছাড়া কি তাকে তেল দিতে হবে।
মেসার্স তোফায়েল এণ্ড সন্সের সত্ত্বাধিকারী (তেলের দোকান) জিহাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় বোতল নিয়ে একটি ছেলে আসে। এসময় আমার বাবা তাকে সিরিয়াল মেইনটেইন করে আসার জন্য বলে। কিন্তু সেটি না করে বোতলে তেল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি ও উচ্চবাচ্য কথা বলতে ধাকে। একপর্যায়ে আমার বাবাকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে আমার বাবাও তাকে ধাক্ক দিলে সে অতর্কিতভাবে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন ছেলেটিকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর ছেলেটি আবার দলবল নিয়ে দোকানে আসে। তখন পুনরায় আমার বাবাকে মারধর করে। তখন আমাদের দোকানের কর্মচারি ও অন্যান্য বাইকাররা এগিয়ে আসে। কিন্তু এখন দেখছি, ছেলেটি অসুস্থতার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে চিকিৎসা নেয়। সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে নিউজ করিয়েছে। আসলে ছেলেটি ছাত্রদল করতো এটি আমার বাবার জানা ছিল না। তাছাড়া প্রশাসনের নির্দেশ ছিল, সিরিয়াল মেইনটেইন করে তেল বিক্রি করতে। সে অনুযায়ী আমরা তেল বিক্রি করে থাকি। এছাড়াও ছাত্রলীগ এবং ছাত্রশিবিরের লোকদের নিয়ে তাদের মারধরের অভিযোগটি সম্পির্ন মিথ্যা। আমাদের দোকানের কর্মচারি ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসা লোকজন ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। আর ঘটনাটিও রাজনৈতিক নয়। বিষয়টি নিয়ে ইমনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি আমরা।
অভিযুক্ত যুবক এমদাদুল হক ইমন বলেন, অতিরিক্ত দামে দোকানি তেল বিক্রি করছেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় মারধর করা হয়। সিরিয়াল ভঙ্গ করে তেল ক্রয়ের চেষ্টা ও দোকানিকে মারধরের অভিযোগটি সত্যি নয়।
এবিষয়ে সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ,বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।