বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
রবিবার সকাল ১১টার দিকে ডোমার থানার হরিনচড়া ইউনিয়নের সেওডগাড়ি এলাকায় বাবার বসতবাড়ি থেকে দুই সন্তানের জননী সালমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ডোমার থানা পুলিশ। সালমার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সংসারে অশান্তি ও অবহেলার কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে ঘটনার তদন্তে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন তথ্য।
সালমার স্বামীর বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে।সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সালমা ও মুদি দোকানদার প্রতিবেশী নুর নবীর মধ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়টি ঘিরে তাদের সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
সালমার স্বামী আনোয়ার বলেন, “আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিল। এ নিয়ে আমাদের মাঝে মধ্যেই বাকবিতন্ডা হতো। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার স্ত্রী ও নূরনবী একে অপরের সাথে সম্পর্ক রেখেই চলে। তাদের মধ্যে চলা সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় আরও বেশি জানাজানি হলে কয়েকদিন আগে সে তার বাবার বাড়িতে চলে যায় এবং সেখানেই সে আত্মহত্যা করে। আমার স্ত্রীর আত্মহত্যা বা মৃত্যুর জন্য নুর নবীকেই দায়ী মনে করি।”
সালমার ছেলে আলিফ (১৬) জানায়, “আমার মায়ের সঙ্গে নুর নবীর সম্পর্ক ছিল। আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য সে দায়ী হতে পারে।”এদিকে আনোয়ারের বড় ভাই বলেন, “পরকীয়ার কারণেই একটি সাজানো সংসার ধ্বংসের পথে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।”
ঘটনার পর থেকেই নুর নবী পলাতক রয়েছেন। তার মুদিদোকানও বন্ধ এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে নুর নবীর পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, “এই অপমৃত্যুকে ভিন্নখাতে নিতে নুর নবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে সালমার কোনো সম্পর্ক ছিল না।” ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।