রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সোনালি ধানের ফসলে হাসছে হাওর, শ্রমিকের চড়া দামে কাঁদছে কৃষক সরকারি শৌচাগার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি নড়াইলে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা নড়াইলের লোহগড়ায় এস এস সি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শকদের কর্মশালা গোপালগঞ্জে পাগলা কুকুরের আতঙ্ক: নারী-শিশুসহ আহত অনেকে, হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত এআইয়ের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ, বাংলাদেশে কবে বাবা হলেন রশিদ খান

সরকারি শৌচাগার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের বড়াইগ্রামে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত সরকারি শৌচাগার (হাউসহোল্ডিং) স্থাপনে অনিয়ম ও সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. মাইদুল ইসলামের দুই ভাই। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের মাত্র ৩০টি পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত এ বিশেষ প্রকল্পের শৌচাগার পাওয়ার কথা ছিল নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী সুবিধাবঞ্চিতদের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে মো. মাইদুল ইসলাম তাঁর দুই ভাইকে এই বরাদ্দ পাইয়ে দেন। তাঁদের একজন লালপুর উপজেলায় সরকারি চাকরিতে কর্মরত এবং অন্যজন ব্যবসায়ী, যা প্রকল্পের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক ভাই সরকারি নকশা পরিবর্তন করে নিজের বাড়িতে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করেছেন। অপর ভাই তাঁর বরাদ্দ পাওয়া ট্যাংকিসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে মো. মাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় অভিযুক্তের ভাইয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকের এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে ‘শেষ দেখে নেওয়া হবে’ এবং মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড বিতরণ ও টিসিবি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মো. মাইদুল ইসলাম পদোন্নতি (বেতন গ্রেড ১৫ থেকে ১৩) পেলেও একই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন, যা অনেকের মতে নিয়মবহির্ভূত এবং প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: