বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয়

সোনালি ধানের ফসলে হাসছে হাওর, শ্রমিকের চড়া দামে কাঁদছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিকেদক :
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। মাটিয়ান হাওর, শনির হাওর, বর্ধিত গুরমার হাওর, মহালিয়া হাওর, সমসার হাওর, সিংরার ধাইর হাওরসহ উপজেলার ছোট-বড় সব হাওরেই ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। তবে সোনালি ফসলের এই হাসি কৃষকের মুখে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। একদিকে বৈরী আবহাওয়ার ভয়, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট- এই দুইয়ে মিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা।

​সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মজুরি সাধারণ কৃষকের সাধ্যের বাইরে। কৃষকদের অভিযোগ,শ্রমিকরা এখন প্রতি কিয়ার জমির ধান কাটার জন্য শ্রমিক মজুরি তিন হাজার ৬শ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।
মাটিয়াইন হাওরের পাড়ের স্থানীয় কয়েকজন চাষি আক্ষেপ করে বলেন, এত টাকা দিয়ে শ্রমিক নিলেও তারা শুধু ধান কেটে জমিতে ফেলে রাখবে। সেই ধান আঁটি বেঁধে খলায় তোলা বা মাড়াই করার জন্য আবার আলাদা খরচ ও শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন ও কাটার খরচই বেশি পড়ে যাচ্ছে।

হাওরের কৃষকদের প্রধান শত্রু অকাল বন্যা আর বৈরী আবহাওয়া। আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে কৃষকের।
মাটিয়ান ও সিংরার ধাইর,হাওরের কৃষকরা জানান,গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাদের চিন্তায় ফেলেছে। ধান পেকে যাওয়ায় দ্রুত ঘরে তোলা জরুরি,কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। ​বড় ও মাঝারি চাষিরা পড়েছেন মহাবিপাকে। বাইরে থেকে আসা পেশাদার ধান কাটা শ্রমিকের(যা স্থানীয়ভাবে দাউতি নামে পরিচিত)সংখ্যা এবার তুলনামূলক কম।

ফলে স্থানীয় শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অনেকেই আবার ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের চেষ্টা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তার সংখ্যা খুবই নগণ্য।

​হাওরবাসীর দাবি, কৃষি বিভাগ যদি দ্রুত ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করে এবং বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে,তবেই হয়তো সোনার ফসল গোলায় তোলা সম্ভব হবে। অন্যথায় শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি রয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: