শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্বাবধায়কসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহার করলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী গোপালগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা: গণধোলাই খেয়ে আটক ৪ ডাকাত অ্যালার্জি-চুলকানি কেন হয়, দ্রুত পরিত্রাণের উপায় : ডা. তাসনিম জারা নড়াইলের লোহাগড়ায় মরহুম ওবায়দুল হক সবুজের মৃত্যুতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত উজিরপুরে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন- এমপি সরফুদ্দীন আহম্মেদ সেন্টু “আলোকে সমান্তরাল প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল আমার লক্ষ্য” – ড. আতাউল করিম সাইবার হামলা রুখতে নতুন অস্ত্র ওপেনএআই খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ট্রাস্ট ব্যাংকে চাকরি, যারা আবেদন করতে পারবেন ‘আমরা বিবাহিত তবে সিচুয়েশনশিপে আছি’

“আলোকে সমান্তরাল প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল আমার লক্ষ্য” – ড. আতাউল করিম

কম্পিউটার প্রযুক্তির বিকাশের ইতিহাস মূলত গতি বাড়ানোর ইতিহাস। একসময় যে কাজ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, আজ তা কয়েক সেকেন্ডেই সম্ভব হচ্ছে। তবু আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছে এই গতি এখনো যথেষ্ট নয়। ডেটার পরিমাণ বাড়ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিমুলেশনের প্রয়োজন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ডক্টর মোহাম্মদ আতাউল করিমের গবেষণা-অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে একটি ভিন্নধর্মী পথের কথা তুলে ধরে। তাঁর ভাষায়, “আলোকে সমান্তরাল প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল আমার লক্ষ্য।”

এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে একটি মৌলিক প্রযুক্তিগত উপলব্ধি। প্রচলিত কম্পিউটার বিদ্যুতের সিগন্যাল ব্যবহার করে কাজ করে, যেখানে তথ্য একটির পর একটি প্রক্রিয়াজাত হয়। এতে করে গতি বাড়ানোর একটি স্বাভাবিক সীমা তৈরি হয়। কিন্তু আলো বা ফোটন একসঙ্গে বহু পথে ছড়িয়ে যেতে পারে। একে ব্যবহার করে একই সময়ে অনেক তথ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব—যাকে বলা হয় সমান্তরাল প্রসেসিং। বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে গেলে বলা যায়, বিদ্যুৎ দিয়ে তথ্য পাঠানো যেন এক লাইনের রেলপথে ট্রেন চালানো, আর আলো দিয়ে তথ্য পাঠানো যেন একসঙ্গে বহু লাইনের রেলপথ ব্যবহার করা। এতে পরিবহন যেমন দ্রুত হয়, তেমনি তথ্য প্রক্রিয়াকরণও দ্রুত হয়।

ডক্টর করিমের গবেষণা-জীবনের এক পর্যায়ে এই ধারণা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। ইলেকট্রনিক প্রসেসরের সীমাবদ্ধতা তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে—যদি আলোর বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগানো যায়, তবে কম্পিউটিংয়ের গতি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই তিনি অপটিক্যাল কম্পিউটিংয়ের দিকে মনোযোগ দেন। তাঁর গবেষণায় আলোকে একমাত্রিকভাবে নয়, বরং দ্বিমাত্রিকভাবে ব্যবহার করার ধারণা উঠে আসে। অর্থাৎ, একটি মাত্র পথে আলো পাঠিয়ে কাজ না করে, আলোর বিস্তৃত ক্ষেত্র ব্যবহার করে একসঙ্গে বহু গণনা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

এই গবেষণার প্রয়োগ ক্ষেত্রও ছিল বাস্তবসম্মত। অপটিক্যাল সিস্টেমে ছবি প্রক্রিয়াকরণ, দ্রুতগতির সেন্সর ডেটা বিশ্লেষণ এবং নাইট ভিশন ডিসপ্লের মতো প্রযুক্তিতে তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামরিক বা উদ্ধার অভিযানে রাতের অন্ধকারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেখানে যদি ইমেজ প্রসেসিং ধীরগতির হয়, তবে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অপটিক্যাল কম্পিউটিংয়ের ধারণা এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণের পথ দেখায়।

ডক্টর করিমের অভিজ্ঞতায় এই গবেষণা সহজ ছিল না। নতুন প্রযুক্তির পথে কাজ করতে গিয়ে তহবিল, অবকাঠামো ও আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমন্বয়ে কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কখনো একক বিষয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বিভিন্ন শাখার মিলনেই নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

আলোকে সমান্তরাল প্রসেসর হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্য তাই শুধু একটি প্রযুক্তিগত কৌশল নয়; এটি ভবিষ্যৎ কম্পিউটিংয়ের প্রতি এক দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ডক্টর করিমের গবেষণা-অভিজ্ঞতা আমাদের দেখায়, প্রচলিত সীমাবদ্ধতাকে প্রশ্ন করার মধ্য দিয়েই নতুন পথের জন্ম হয়—যে পথে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আরও দ্রুত, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: