সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি মোরসালিন শেখ ওরফে রাজুকে (২০) মাত্র ৪ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবারের ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে শিকলবন্দি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে গোপালগঞ্জ সদর থানার বনগ্রাম এলাকা থেকে কাশিয়ানীর নিজামকান্দি পূর্বপাড়ায় খালা জনি বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে শিশুটি। খালার প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল মোরসালিন শেখের। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে পুকুরে গোসলের কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায় মোরসালিন। পরে নির্জন এক জমিতে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে ও হত্যার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় পাষণ্ড মোরসালিন।
জ্ঞান ফেরার পর ভিকটিম তার খালাকে বিস্তারিত জানালে প্রচুর রক্তক্ষরণ অবস্থায় তাকে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত ৯ মে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-১৪) রুজু করা হয়।
মামলা হওয়ার পরপরই গোপালগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ জিয়াউল হক পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) নাফিছুর রহমানের নেতৃত্বে চিরুনি অভিযান শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা শেখ তাজউদ্দিন আহমেদ ও সাব-ইন্সপেক্টর খায়রুল বাশার প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন, আসামি সীমান্ত এলাকায় পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থান করছে।
তৎক্ষণাৎ পরিচালিত ওই বিশেষ অভিযানে মামলা হওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মাথায় রাত ৩টা ১৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জ থেকে মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপ এবং পেশাদারিত্ব স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমানে আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।