শুক্রবার, ১৯ Jun ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১,৮০০ মিটার দীর্ঘ ‘বারখাল’ পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) বিকেলে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ উজ জামান নৌকাযোগে পুরো খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি খাল খনন এবং অবৈধভাবে দখলকৃত খালসমূহ উন্মুক্ত করা হবে। টুঙ্গিপাড়ায় মৎস্য প্রকল্পের দখলে থাকা খালগুলোও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে পারে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও যোগ করেন, এই খাল পুনঃখননের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কৃষকরা সহজেই নৌপথে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এটি মৎস্যজীবী ও কৃষক উভয়ের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
খাল পরিদর্শনের সময় গ্রামীণ আবহ উপভোগ করে জেলা প্রশাসক নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমি গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছি। নৌকায় করে পুরো খাল ঘুরে দেখতে আমার দারুণ লেগেছে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইজিপিপি (EGPP) প্রকল্পের আওতায় এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে এই খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত গভীরতার চেয়েও বেশি খনন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকুড়তিয়া বাজার জামে মসজিদ এলাকা থেকে পারঝনঝনিয়া খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই বারখালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও নাব্যতা সংকটে ভুগছিল। ফলে এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। বর্তমান পুনঃখননের ফলে খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুরোদমে নৌযান চলাচলের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই খালটি নতুন রূপ ফিরে পাওয়ায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, এই উদ্যোগের ফলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, মাছ আহরণ সহজ হবে এবং গ্রামীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।