শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের তোড়জোড় করছেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়। স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের জন্য তাদের জমি প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত যথাযথ ভাবে জমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটি সাধারন মানুষের কোন কাজে লাগছে না ব্রিজের দুইপাশে রত্নপুর সড়ক ও শোলক বাজারের সড়কের জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন ব্রীজটি নির্মানের সময় তার জমির উপর দিয়ে সড়ক নির্মান করতে দিবেন না বলে জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেছেন সরকারী ভাবে জমি অধিগ্রহন করে নিবেন। ব্রিজটি নির্মান হওয়ার পর রুপ বদলে যায় প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের। জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরন দিতে রাজি নয় উল্টো তাদের মামলা দেয়ার হুমকি সহ ও নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এমনকি সেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যেতেও চাপ দেন। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একজন প্রকৌশলী কি ভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে পারেন?নিয়ম অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিবর্তে জমি ব্যবহারের পথ তৈরি করা হলে তা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের নামে কারও জমি দখল করার সুযোগ নেই। সরকারি প্রকল্প হলেও জমির মালিকের অধিকার ও আইনানুগ প্রক্রিয়া মানতেই হবে।এ ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠেছে, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এখন সেই ঘাটতির দায় কি সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি,সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা হোক। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কাজ শুরু না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের অভিযোগ, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত না করলে পরবর্তীতে জমির মালিকদের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তাই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। উন্নয়নের নামে জমি দখল নয় আইন মেনে জমি অধিগ্রহণ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। এখন প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি প্রকৃত বিষয়টি সামনে আনবে? এ বিষয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।