সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া : কুলাউড়ার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর অভিযোগে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগমকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেওয়া অতিরিক্ত বোনাস বন্ধ করে দিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
গত ১০ ও ১২ আগস্ট বিভিন্ন মাধ্যমে দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং টেস্ট পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিদ্যালয়টি থেকে এবার ১১৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৬২ জন অকৃতকার্য হয়। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।
সংবাদ প্রকাশের পর টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হুসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বোর্ডের কাছে টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর বিষয় ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও পাস দেখিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগম নিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি তিনি জানতেন না।
এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট রোববার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগমকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে পরবর্তী সময়ে শোকজ করা হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু মাসুদকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকা সন্তোষজনকভাবে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাকে শোকজ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো চিঠি বা নির্দেশনা তিনি এখনো পাননি। তবে ঘটনাটি জানার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেওয়া অতিরিক্ত বোনাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর জন্য টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়েছিল কি না, কার সিদ্ধান্তে তা করা হয়েছিল, কোন শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পেয়েছিল এবং কেন অন্য শিক্ষার্থীরা একই সুযোগ পায়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট হয়নি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তদন্তের মাধ্যমে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল, ফরম পূরণ এবং বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।