শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সন্তানদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই নারীর দুটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং গোপনাংশে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া খানকা মাদ্রাসা এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ও চলমান মামলার কারণে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা রাতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে ৩ থেকে ৪ জন ঘরে ঢুকে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং সন্তানদের দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জানান, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন—তারা হলেন আকবর এবং পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সোহাগ কাজী।
ঘটনার সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আকবর ও সোহাগ কাজীকে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপরাধ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্তে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।