রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ প্রকাশের পর উজিরপুরে ভূমি অফিসের সানজিদার বিরুদ্ধে দু’টি তদন্ত কমিটি

উজিরপুর প্রতিনিধি : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও সরকারি নথি নিয়ে কারসাজির অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী সুজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজার স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে সানজিদার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকাশিত সংবাদে সানজিদার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই দিনে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. শাহজাদা মিয়াঁকে সানজিদার বিরুদ্ধে সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে সানজিদার বিরুদ্ধে পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি, টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং সরকারি নথি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ইচলাদি মৌজার এসএ ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করার দাবি। এছাড়া বিভিন্ন খতিয়ানে তহশীলদারের স্বাক্ষর ও সিল ছাড়াই হাতে লেখা তথ্য পোস্টিং এবং জেএল ৯২ নম্বর উজিরপুর মৌজার এসএ ১২৪ নম্বর খতিয়ানের নথি দুই লাখ টাকার চুক্তিতে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে সানজিদার কথামতো কাজের প্রতিবেদন না দেওয়ায় দুর্ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সানজিদাকে একাধিকবার বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী সুজা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সানজিদাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কানুনগোকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: