বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:০৫ অপরাহ্ন

পারস্পরিক সহযোগিতাই সমতা অর্জনের বাহক: প্রসঙ্গ নারী দিবস-মিতা সাহা

৮ই মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও সারা বিশ্বে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। UN Women এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে, ‘Gender equality today for a sustainable tomorrow’. এ প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে, ‘টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য’। মূলত নারী-পুরুষ সমতা উন্নয়নে জলবায়ু সংকট উত্তরণ, প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করা একবিংশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি অরক্ষিত অবস্থানে আছে বিধায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোতে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য। এ প্রেক্ষিতে টেকসই উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষ সমতার আগামী বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২২’।

এই দিনটাতে বিশ্বের যত নারী আছেন তাদের মধ্য অনেকেই সকলের সাথে তাঁদের বনের সফলতার গল্পগুলো শেয়ার করবেন, নারীর অধিকারের কথা বলবেন। আমরা যে নারী  খন আমাদের সাথে ‘পারি’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে । সবই ঠিক আছে। বিশ্বে সব জায়গায় নারীর অবস্থান রয়েছে । নারীরা চাইলে সত্যিই সব করতে পারে । সেটা যেকোনো পরিবেশ আর যেকোনো পরিস্থিতি হোক না কেনো ! আজ আমি আমার জীবনের এক গল্প শেয়ার করবো, হয়তো কেউ ইতিবাচক পোষণ করবেন নয়তো কেউ সমালোচনার মুখর হয়ে বলবেন, এটা কোনো সফলতা ! আসলে সফলতার মাপকাঠি একেক জন থেকে একেক জনের ভিন্নতা আছে। যা-ই হোক না কেন আমার মনে হয় এটা আমার জীবনে একটা বিশাল সফলতা, হয়তো এর চেয়ে বড় সফলতা আর হতেই পারেনা । বেগম রোকেয়া তিনি একজন মহীয়সী নারী। তিনি নারী-পুরুষ সমতার কথা বলেছেন ।

সমাজে নারী জাগরনের কথা বলেছেন। আমরা সবাই জানি উনার চিন্তা চেতনার  সারণের পেছনে রয়েছেন উনার ভাই আর বিয়ের পর স্বামী । তাই আমরা যেকোনো কাজ করিনা কেন পাশে একজন মানুষ থাকলে সফলতা আসবেই। যেমন আমার লেখার পিছনে ম্পুর্ন অবদান আমার ছোট ভাইয়ের । ও আমাকে উৎসাহ দেয়, প্রকাশিত করতে সহযোগিতা করে । আমি একজন গৃহিণী এছাড়া পরিচয় দেওয়ার মত আমার আর কিছু নেই ।

মাঝে-মাঝে এটা নিয়ে অনেক দুঃখ প্রকাশ করতাম । আমার বিয়ে হয়েছে ২০১১ সালে গগণা করলে এক যুগে পর্দাপণ করেছি । হয়তো আমি এই প্রাসঙ্গিকতা আরো ২-৩ যুগ পরেও লিখতে পারতাম, কিন্তু আমার মনে হলো সেই পযর্ন্ত আমি যদি বেঁচে না থাকি! আমার এই কথাগুলো শেয়ার করতে না পারি! তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবোনা । রিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়েছিল বিধায় আগ থেকে জানতাম না আমার জীবন সঙ্গী কেমন হবে । বিয়ের পর একটা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে তাঁর স্বামী পাশে থাকাটা যে কতটা জরুরী, তা প্রতিটি মেয়ে মর্মে-মর্মে উপলব্ধি করে । আমরা দুজন দুজনকে একটু একটু করে আবিষ্কার করছি । একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করছি । সবার বিয়ের পর একে অপরের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক থাকে তারপর আস্তে আস্তে বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেমন জানি মলিন হয়ে যায়।

বিয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের সম্পর্কটা বিয়ের পর যেমন ছিল, তার চেয়ে ভালো সম্পর্ক হতে লাগলো । আমার মনে হয়, আমি আমাকে না যতটা জানি তার চেয়ে আমার স্বামী আমাকে বেশি জানে । আমার চোখ দেখে বলে দিতে পারে আমি কি ভাবছি । সংসারের সবার পছন্দের দাম দিতে গিয়ে, আমার পছন্দের জিনিসগুলোর কথাই আমি ভুলে গেছি, কিন্তু আমার প্রিয় মানুষটি ভুলে নাই । ওর চোখের সামনে আমার পছন্দের কিছু দেখলে, আমার কথা ভাবে । আমাকে এতটাই বিশ্বাস করে যে, কেউ যদি আমার সম্পর্কে কোনো কটু কথাও বলে তবুও সে আমাকে ভুল বোঝেনি কখনও। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো এই বিশ্বাস এর মর্যাদা রাখবো । আমাদের সংসার, সংসারের মানুষগুলো আমার কাছে সবার ঊর্দ্ধে । আমার স্বামীর এই সহযোগিতা স্ত্রৈণতা নয় বরং এটাকে আমি মনে করছি এটা আন্তরিক সহযোগিতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। মানুষ যে কর্মই করুক না কেনো, সঠিক ভাবে করতে পারলে সে সফলতা পাবেই। হোক সংসার, স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত । আমি যার সাথে সংসার করছি সে আমার গার্হস্থ্য কাজকে স্বীকার করছে। আমার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ জ্ঞানে এটা নারী-পুরুষ সমতার এক অনন্য উদাহরণ। সমতা অর্জনের পথ বন্ধুর তবে, “আমরা সমাজেরই অঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে ? কোন ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে ? পুরুষদের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে-একই। তাহাদের জীবনের উদ্দেশ্যবা লক্ষ্য যাহা, আমাদের লক্ষ্যও তাহাই”। এই বন্ধুর পথে চলতে নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম

রোকেয়া লৈখিক বাণী, ইন্দ্র বজ্রের মতো উন্মাদনা জাগাক। হোক না শুরু এখন থেকেই…

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি