বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিহ্মোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় দেশে পরিবেশ বান্ধব কৃষি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আহবান বোপমা সভাপতির হাতীবান্ধায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামী শাহিন গ্রেফতার সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বরিশালে আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল খেলাপি বৃদ্ধির শীর্ষে ২০ ব্যাংক বিমানবন্দরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে যা বললেন শাকিব খান বরিশাল শেবাচিমে অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তেলের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন: বাণিজ্যমন্ত্রী বামদের হরতালে বিএনপির সমর্থন বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধি, দ্বিতীয় চিন্তার অবকাশ রয়েছে

ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে কৃষককে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ১৬ টাকার পরিবর্তে ২২ টাকায় কিনতে হবে। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ৩৮ শতাংশ। ডিলার পর্যায়ের দাম ১৪ টাকা থেকে ২০ টাকা করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর কারণ হিসাবে মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ ছাড়াও ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কারণ যা-ই বলা হোক, সিদ্ধান্তটি কি সঠিক হয়েছে?

বলা বাহুল্য, সারের মূল্যবৃদ্ধি মানে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, অর্থাৎ কৃষকের লাভ কম হওয়া। এমনিতে ফসল উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। অর্থাৎ কৃষকসমাজ এক ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।

এ অবস্থায় সারের দাম বাড়ায় কৃষকের লাভ যেহেতু কমে যাবে, সেহেতু পরের মৌসুমে তারা ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন। এমনিতেই আমরা খাদ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে তৈরি হবে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি, তখন আরও বাড়বে আমদানিনির্ভরতা।

এটা ঠিক, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে সারের দাম বেড়েছে। ফলে সারের একটা সংকট তৈরি হয়েছে বৈকি। কিন্তু আমাদের কথা হলো, দেশের বাজারে সারের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে পারত। তা না করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আর ভর্তুকি কমাতে চাপ রয়েছে আইএমএফের। আমাদের কথা হলো, আইএমএফের প্রস্তাব বা চাপের চেয়ে সামাজিক বাস্তবতার যথাযথ মূল্যায়নই বেশি জরুরি। সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সারের ব্যবহার কমে আসবে।

এখন চলছে আমন ধান ফলানোর সময়, সারের ব্যবহার কম হলে আমনের উৎপাদন কম হবে এবং এরপর বোরো মৌসুমেও এর প্রভাব পড়বে। বলা বাহুল্য, ইউরিয়া সারের ওপর কৃষকের নির্ভরতা বেশি। সরকার হয়তো ভাবছে, ইউরিয়ার দাম বাড়লে কৃষক বিকল্প হিসাবে ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়াবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরিয়ার দাম বেড়ে গেলে সব ধরনের সারের ব্যবহার কমে যায়। কারণ কৃষক সারের জন্য মোট যে খরচ, তা ঠিক রাখতে চায়।

সারের দামবৃদ্ধির ফলে কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তার মানে দাম বাড়বে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন শিল্পপণ্যের, সামগ্রিকভাবে যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলবে। অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে। তাই সবকিছু বিবেচনায় সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করব, ইউরিয়ার দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় কিনা, তা যেন নতুন করে ভাবা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি