মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আবিরের জন্মদিনে পরিবারের পাশে অনেকে

ঢাকার নর্দা এলাকায় ঘাতকের ছোড়া বুলেট কেড়ে নেয় আব্দুল্লাহ আল আবিরের জীবন। বেঁচে থাকলে গতকাল শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) আবির পালন করতো তার জীবনের ২৪ তম জন্ম উৎসব। দিনটিকে ঘিরে বাবা-মা এবং একমাত্র বোনের নানা আনন্দ আয়োজনের অংশ হতো সে। কিন্তু আবিরকে ছাড়া এই প্রথমবার শুধুই বিষাদ স্মৃতির উদযাপন করছিল তারা।

আবিরের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ টেলিভিশন। এরপর থেকেই বরিশাল নগরীর গোরাচাঁদ দাস রোডের আবিরদের বাড়ীতে ভীড় করতে থাকে অনেকে। আবিরের বাবা-মার কাছে দিনটিকে একটু কম বেদনার্ত করতে তাদের সঙ্গে সময় কাটায় তারা।

এদিন সন্ধ্যায় আবিরের বাবা – মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের সঙ্গে ছিলো গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সদস্যরাও। এর আগে পাড়া – প্রতিবেশী এবং আত্মীয় – স্বজনদের অনেকেই আবিরের বাবা – মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। বিকেলে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সেখানে যান। স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেও নিয়েছেন খোঁজ খবর।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের এমন উপস্থিতি বেদনার ভার কিছুটা কমিয়েছে এই শহীদ পরিবারের। আবিরের বাবা মো. মিজানুর রহমান দেশ টিভিকে জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন মানুষ আমাদের কাছে এসেছে। সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে এবং আবিরের মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। তারা আমাদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছে, দেশকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সুজয় শুভ বলেন,ছাত্র – জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি তো মনে করি যে গুলিটি আমার ভাগে ছিলো সেটি বহন করতে হয়েছে আবিরের মতো অনেককে। দেশ টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর আমরা আবিরের জন্মদিন সম্পর্কে জানতে পারি এবং দিনটিতে যেন পরিবারটি একাকিত্ব অনুভব না করে সেজন্য তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলাম।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ শে জুলাই ঢাকায় আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল্লাহ আল আবির। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে এভাবে মৃত্যুবরণকারী অন্তত ৩০ জনের বাড়ি বরিশালে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: