মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব, হাতিয়াতে বৃষ্টি, নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ নওগাঁয় ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গণ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি মুলক সভা অনুষ্ঠত কারিকুলামে বাল্যবিবাহ রোধ অন্তর্ভূক্ত করা হবে-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ব্যক্তিগত, দল বা সরকারের নয়: কাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবাধে চলাচলের স্বপ্ন দেখি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রানীশংকৈলে প্রস্তুতি সভা সিনহা হত্যা মামলা : ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ শুরু ক্যাটরিনার বিয়েতে যেতে লাগবে কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট

ভিয়েতনাম ফেরত প্রতারণায় শিকার ১০৬ জনের ভাগ্যে কী ঘটবে

নিউজ ডেস্ক : ভিয়েতনাম গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া ১০৬ জন প্রবাসী কর্মী ১৮ আগস্ট দেশে ফিরেছেন। করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট না থাকায় তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) কোয়ারেন্টিন শেষে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে তুরাগ থানার পুলিশ তাদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য, এমনকি মামলার জব্দ তালিকার মতো করে তাদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রের তালিকাও করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় ভিয়েতনাম ফেরতদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গ্রেফতার আতঙ্ক।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ১৮ আগস্ট ১০৬ প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরেন ভিয়েতনাম থেকে। বিকাল ৪টার দিকে ফ্লাইট থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর তাদের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নেওয়া হয় রাত ১১টার দিকে। এরপর বিমানবন্দর পুলিশের একাধিক ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

ভাগ্য বদলানোর আশা নিয়ে গেলেও তাদের ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। কেউ কেউ শিকার হয়েছেন নির্যাতনের। এখন ভিয়েতনামে যারা আছেন, তারাও মানবেতন জীবন যাপন করছেন। তবে কোয়ারেন্টিন শেষে তাদের বাড়ি ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
রবিবার রাতে তুরাগ থানার উপ-পরির্দশক মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভিয়েতনাম ফেরতদের নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগেজ, মোবাইল ফোন ইত্যাদির তথ্যও সংগ্রহ করেছেন। ভিয়েতনাম ফেরতদের বলা হয়েছে, তাদের মালামাল যেন পরিবারের সদস্যরা এসে নিয়ে যান। তাদের কেরানিগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হতে পারে বলে জানালেও কী কারণে নেওয়া হবে তা জানায়নি তুরাগ থানার পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তুরাগ থানার উপ-পরির্দশক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুধু ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে তাদের (ভিয়েতনাম ফেরত) তালিকা করেছি। তবে তাদের কী করা হবে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’

প্রায় একই কথাই বললেন তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা নুরুল মোত্তাকীন। ভিয়েতনাম ফেরতদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়েছে আছে কিনা জানতে চাইলে নুরুল মোত্তাকীন বলেন, ‘এখনও কোনও মামলা হয়নি। তাদের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও উত্তরা জোনের উপ-কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দিয়াবাড়িতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ভিয়েতনাম ফেরত কয়েকজন প্রবাসী কথা বলেন আমাদের সঙ্গে।তবে আতঙ্কিত প্রবাসীরা নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘আমরা বাড়ি ফেরার জন্য সবাই অস্থির হয়ে আছি। কিন্তু রবিবার রাত থেকে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। পুলিশ আমাদের নাম ঠিকানা নিচ্ছে। গ্রামের চেয়ারম্যানের নাম ও ফোন নাম্বার চাচ্ছে।

একবার বলছে, আমাদের থানায় নেওয়া হবে; আরেকবার বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হবে। কিন্তু কেন নেওয়া হবে এ বিষয়ে কিছুই বলছে না। আমরা তো কোনও অপরাধ করিনি। বরং আমরা প্রতারিত হয়েছি। ভিয়েতনামে কাজের আশা গিয়ে কাজ পাইনি, দেশি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি।’

প্রসঙ্গত, ভিয়েতনামে মানব ও অর্থপাচারে জড়িত ২১ প্রতিষ্ঠান। প্রতি মাসে ৫০০ ডলারের বেশি আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনবল নিয়ে যাওয়া হয় ভিয়েতনামে। কর্মসংস্থানের আশায় গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৬-৭ মাস পরেই ফিরতে আসতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।অর্থপাচারে কাজেও মানব পাচারকারী চক্র ব্যবহার করছে প্রবাসীদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি