শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে – মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সুবর্ণচরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ শুভ উদ্বোধন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে এমপি আব্দুল খালেকের প্রথম সভা শিবালয়ে সরকারি রাস্তার উন্নয়ন কাজে বাধা: এলাকাবাসীর মানববন্ধন নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন শুরু ফুটবলের নিষ্ঠুর আততায়ীর শিকার সেনেগাল বিশ্ববাজারে আরও কমল জ্বালানি তেলের দাম করিডরের উপকার তিন দেশই পাবে: চীনা রাষ্ট্রদূত শ্রীপুরে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

বাংলাদেশ নামক একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ষড়যন্ত্র : আলহাজ্ব ভিপি ইব্রাহীম

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অত্যন্ত জটিল এবং বহুমাত্রিক। পূর্ব পাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান) মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ও বঞ্চনার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী এই বৈষম্য পরিহারের দাবী তোলে । পশ্চিম পাকিস্তান তা অগ্রাহ্য করার কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে দিন দিন তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রতি তীব্র ক্ষোভের জন্ম নেয় । এই সুযোগ গ্রহণ করেন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমতালোভী প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জনমত গঠন করতে শুরু করে। এতে জনগণ সাড়া দেন, মানুষের অধিকারের কথা বলে নেতৃত্বের সম্মুখে আসেন ।

পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন এবং সেই শাসনের প্রধান থাকবেন শেখ মুজিবুর রহমান । যখন কোনোটাই হলো না, তখন আন্দোলন আরো তীব্র করার জন্য মানুষকে নানাভাবে উস্কানি দিতে থাকল প্রধানমন্ত্রী অথবা পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনে প্রধান হবার লক্ষ্যে, অধিকারবঞ্চিত নিজ দেশের মানুষের অধিকার অর্জনের দাবীকে পুঁজি করে। সেই কারণে একদিকে আন্দোলনের কথা বলেছেন অন্যদিকে পাকিস্তানের সাথে যোগসাজশ রেখে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন। আন্দোলন যখন জমে উঠেছিল সেই সময়ে জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন, ৭ই মার্চের ভাষণে কথা ছিল তিনি পরিষ্কার ভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা করবেন কিন্তু তিনি ধোঁয়াশা মূলক একটি ভাষণ দিলেন, ” এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” এতে স্পষ্টভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না। এই ভাষণে শেখ মুজিব স্বাধীনতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি, যা তার রাজনৈতিক কৌশলের একটি অংশ, শুধুমাত্র এদেশের মানুষকে ধোঁকা দেবার একটা পরিকল্পনা। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেননি এবং ভিডিও রেকর্ডেও তিনি তার কথা রেকর্ড করতে দেননি। এই আন্দোলন যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হলো তখন তিনি পাকিস্তানের কাছে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেন। পঁচিশে মার্চের রাতে পাক হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ এবং শেখ মুজিবের সেচ্ছা কারাবরণ থেকে ধারণা করা যায় যে তিনি এর সবকিছু জেনেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সড়ে গিয়েছিলেন। এই দিশেহারা জাতি যখন ক্রমাগত ভাবে আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছিল, তখন ২৬ মার্চ, ১৯৭১ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। তিনিই প্রথম বলেছিলেন we revolt, আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করলাম ।

তৎকালীন সময়ে বন্ধু বেশে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীনতা যুদ্ধে সামরিক, কূটনৈতিক এবং মানবিক সাহায্য প্রদান করে। পাকিস্তানকে দুর্বল করার জন্য ভারতের জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেখা যায় স্বেচ্ছায় নেয়া কারাবাস থেকে ফিরে শেখ মুজিব এদেশের মানুষের বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ শোষণের দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা বিতর্ক এবং অভিযোগ উঠতে শুরু করে। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক অব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ছিল ভারতীয় প্রভাব।আজকের বাংলাদেশেও আমরা তাই দেখি, একই পর্যায়ে ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা জোরপূর্বক ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তার দীর্ঘমেয়াদী শাসনামল আসলে ছিল ‘গণতান্ত্রিক ছদ্মবেশে একনায়কত্ব’ এবং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত । দুর্নীতি করে দুর্নীতিবাজরা বাংলাদেশের সমস্ত অর্থ কেবল কুক্ষিগতই করেননি দেশের বাইরে বিনিয়োগও করেছে, পাচার করেছে। একদিকে নিজ দেশ, বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে অপরদিকে অন্যদেশের প্রতি মমত্ব বোধের প্রমাণ দিয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মূল বিষয়গুলো ইতিহাসের নিরিখে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর পেছনে ছিল জটিল রাজনৈতিক কৌশল, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং ক্ষমতালিপ্সার কারণে দেশের সামগ্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আজকের বাংলাদেশে সেই ষড়যন্ত্রের রেশ এখনো রয়ে গেছে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক,সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল ও গাজীপুর ০১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: