সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সৌদির আকাশসীমা বন্ধ: ঢাকায় ৪৮৫১ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত, ২৮টি ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে প্রভাব পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন করে ফিরে আসছে: সাদিক কায়েম কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পলাতক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা করতে কানাডাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান জ্বালানির বাড়তি খরচের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধসহ ৫ দাবি ওলামা মাশায়েখের ৬৪ জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ দেবে পুলিশ, এসএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী আচরণ না করার আহ্বান রিজভীর ব্যাংককে শুরু আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা: সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ২১ জানুয়ারি

বিক্রেতাদের হাত ঘুরলেই বাড়ে এলপিজির দাম, অভিযোগ দেওয়ারও সুযোগ নেই

দাম নির্ধারিত থাকলেও বিক্রেতাদের হাত ঘুরলেই বেড়ে যাচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে অন্তত দেড়শো টাকা অতিরিক্ত, যা চাপ সৃষ্টি করছে ভোক্তাদের ওপর।

ক্রেতার কাছ থেকে নেয়া বাড়তি টাকা ক্যাশ মেমোতে না লেখায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণও সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সিলিন্ডার কেনার ফলে গ্রাহকদের মাসিক খরচের হিসাব ভারী হচ্ছে। এই হরিলুটের বাজারে সরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চুপ।

ক্রেতা ঠকানোর এই দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) নেয়ার কথা বলছে ক্যাব।

বিইআরসি জানাচ্ছে, দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলে সিলিন্ডার উধাও হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক।

সিলিন্ডারের বাড়তি দাম নেয়ার বিষয়ে শারমীন আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, একেক দোকানে একেক ধরনের দাম রাখা হচ্ছে এবং সরকার নির্ধারিত দাম মানার কোনো চেষ্টা ডিলাররা করছেন না। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ২৭০ টাকা মূল্যের ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছেন ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৮০ টাকা বেশি।

এদিকে, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে রাজধানীর বাংলামোটরের রুটি ব্যবসায়ী তোতা মিয়াকে গুনতে হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৩০ টাকা বেশি।

সিলিন্ডারের দাম কেন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই বিষয়ে ডিলাররা জানান, সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে দূরত্ব ভেদে অতিরিক্ত খরচ নেয়া হয়।

ডিলার মেহেদি হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সরকার দোকান থেকে কেনার দাম নির্ধারণ করেছে, কিন্তু বাসায় পৌঁছে দেয়ার সময় খরচ হওয়ায় কিছুটা দাম বাড়ে।

নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে আধা কিলোমিটার দূরত্বে পরিবহন খরচ বাবদ বাড়তি ৫০ টাকা নেয়ার পক্ষে যুক্তি দিলেও এর বেশি অর্থ আদায়কে অনেক খুচরা বিক্রেতা প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।

ডিলার জাকির হোসেন বলেন, সরকার দাম বেঁধে দিয়েছে, তাই চাইলেও বাড়তি দাম নেয়ার সুযোগ নেই।

ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, প্রতি সিলিন্ডারে ১০০-২০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। মনিটরিংয়ের অভাবের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

গ্রাহক ঠকিয়ে গ্যাস বিক্রির এই বিপণন কাঠামো গড়ে ওঠার দায় এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে নিতে হবে বলে যুক্তি ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের।

সংগঠনটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তর মনে করছে এটি দেখবে বিইআরসি, কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে বিইআরসি পর্যাপ্ত নজর রাখছে না। এই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।’

বিইআরসি বলছে, দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, ‘বোতলের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে; এ অবস্থায় কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিচালনায় থাকায় সারাদেশে এর সংখ্যা কমে গেছে। আদেশ কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় ভোক্তা অধিকার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম নিশ্চিত করা কঠিন। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না দিতে পারলে বাজার থেকে সিলিন্ডার স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়ে যাবে।’

দামবৃদ্ধির এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পেতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করার পরামর্শ সংস্থাটির সাবেক মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তা আইনে অভিযোগ করলে শুনানি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।’


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: