শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

দিনে দু’বার গ্রিন টি পানে যা হতে পারে

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে গ্রিন টি জনপ্রিয় পানীয়। কারণ এই চায়ে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।

তাছাড়া বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়, চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে, এমনকি হৃদরোগ ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

অনেকে বলেন, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক ম্যাগাজিন ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এবং গ্রিন টি পানকারীর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে।

তারা দিনে দুবার গ্রিন টি পান করে এক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। যা শুধু শরীর নয়, মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মানসিক স্বচ্ছতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের হৃদরোগ-বিশেষজ্ঞ এবং ‘ইমপ্যাক্ট হেল্থ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. লি এস. মার্কাস দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার কারণে দুপুরের পর প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, যা রোগী দেখার সময় মনোযোগে প্রভাব ফেলত।

সমাধান হিসেবে তিনি প্রতিদিন দুবার গ্রিন টি পান শুরু করেন। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তিনি পরিবর্তন টের পান।

তার ভাষায়, “তিনদিন পরই আমি দেখলাম, জটিল হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় মনোযোগ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ হয়েছে। দুপুরের দিকে যে ক্লান্তিভাব বা ‘বিকেলের কুয়াশা’ আসত, তা একেবারেই থাকছে না।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া’তে অবস্থিত এভরি হার্ট ড্রিমস কাউন্সেলিং–এর কর্ণধার, বিবাহ ও পরিবার থেরাপিস্ট এরিন এভারহার্ট।

তিনি বলেন, “গ্রিন টি পান শুরু করার পর ট্রমা ক্লায়েন্টদের থেরাপি সেশনে মনোযোগ অনেক তীক্ষ্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে মানসিক শক্তি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে, যা কফির ক্ষেত্রে হত না।”

ঘুমের মানের উন্নতি

গ্রিন টি-তে ক্যাফিন থাকলেও, ডা. মার্কাস জানিয়েছেন এটি তার ঘুমের মান উন্নত করেছে।

“অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কফির বদলে গ্রিন টি পান শুরু করার পর আমি দ্রুত ঘুমাতে পারছি এবং সকালে অনেক বেশি সতেজভাবে ঘুম থেকে উঠছি,” বলেন তিনি।

“এটি বিশেষ করে কাজের দায়িত্ব চলাকালে জন্য খুব উপকারী ছিল।”

হজম ও মস্তিষ্কের পারস্পরিক সংযোগ উন্নতি

এরিন এভারহার্টের মতে, “গ্রিন টি মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে।“

তিনি বলেন, “প্রায়ই রোগীদের মাইন্ড-গাট কানেকশন সম্পর্কে শেখাই। নিজে গ্রিন টি পান শুরু করার পর বুঝেছি এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান আমার হজম প্রক্রিয়াকে আরও স্বস্তিদায়ক করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সকালের স্মুদি-রুটিনের সঙ্গে গ্রিন টি যুক্ত করার পর সারাদিন মানসিকভাবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অনুভব করেছি। থেরাপি সেশনগুলোতে চাপ সামলানো সহজ হয়ে গেছে। পরিবর্তনটা এতটাই লক্ষ্যণীয় ছিল যে, আমি উদ্বেগে ভোগা অনেক ক্লায়েন্টকেও এটি চেষ্টা করতে বলেছি।”

প্রদাহ কমানো ও শারীরিক সূচকে উন্নতি

গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ হ্রাসে সহায়তা করে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত।

ডা. মার্কাস নিজের শরীরে এর প্রভাব ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন।

তিনি বলেন, “ছয় মাস ধরে নিয়মিত গ্রিন টি পান করার পর আমার রক্ত পরীক্ষায় ‘সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন’ এর মাত্রা ১৫ শতাংশ কমে যায়। একজন কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে প্রতিদিনই রোগীদের হৃদপ্রদাহের সূচক পরীক্ষা করি। নিজের শরীরে এমন পরিবর্তন দেখা ছিল সত্যিই অবাক করা অভিজ্ঞতা।”

মানসিক প্রশান্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ

গ্রিন টি শুধু শরীর নয়, মনকেও শান্ত করে।

এরিন এভারহার্ট বলেন, “সবচেয়ে অবাক করা পরিবর্তন ছিল আবেগীয় স্থিরতা। পারিবারিক ‘ট্রমা’ সংক্রান্ত কঠিন কেস সামলানোর সময় নিজেকে অনেক বেশি প্রশান্ত মনে হয়েছে। বিশেষ করে টিনএজারদের সঙ্গে ডিবিটি (ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি) সেশন পরিচালনার সময় এটি স্থির থাকতে সাহায্য করেছে।”

ডা. মার্কাসও একইভাবে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছেন।

তিনি বলেন, “গ্রিন টি-তে থাকা ‘এল-থিয়ানিন’ স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। জটিল ও চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এখন অনেক স্থির থাকতে পারি, যা হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ।”


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: