রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের ৯০ মিনিট ছাড়িয়ে অর্থনীতির যে মহাযজ্ঞ বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধের অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাজিমগঞ্জ বাজারের প্রবীণ মাংস ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ আর নেই পুরনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, কার্যকর আইন আনছে সরকার: আবুল খায়ের ভূঁইয়া ফুলবাড়ীতে আমন চাষে তোড়জোড়, জলাবদ্ধতা থেকে চারা গাছ রক্ষায় দোগাছি তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক গোপালগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা অফিসার উজিরপুরের মোঃ শহিদুল ইসলাম লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গাছের চারা বিতরণ ও ফলজ বাগান উদ্ধোধন কুমিল্লার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার সঙ্গে কামরুল হুদার সাক্ষাৎকার

যে কারণে কেঁপে ওঠে পৃথিবী, পরিবর্তন হয় ঘূর্ণনগতির

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। হঠাৎ ভবন দুলে ওঠা, দেয়াল ও দরজার শব্দ, আর আতঙ্কে মানুষজনের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার ঘটনাই জানায় ঝুঁকি কতটা বাস্তব ও ঘনিয়ে থাকা।

স্বল্প সময় স্থায়ী এই কম্পনে বড় ক্ষতি না হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ ভবনে ঝুঁকি যে কোনো সময় বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার সামনে আসে বিশ্বের ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর স্মৃতি।

ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে ১৯৬০ সালে চিলির ভ্যালডিভিয়ায়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫। প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে সৃষ্ট ভয়ঙ্কর সুনামি কয়েকটি দেশে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়। এত শক্তিশালী ছিল কম্পনটি যে পৃথিবীর ঘূর্ণনগতিতেও সামান্য পরিবর্তন ঘটেছিল বলে জানান ভূকম্পবিদরা।

২০১১ সালের জাপানের তোহোকু ভূমিকম্পও আধুনিক বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল। ৯ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী এই মেগা-থ্রাস্ট ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি মুহূর্তেই উপকূলীয় অঞ্চল ডুবিয়ে দেয়। ধসে পড়ে হাজারো বাড়িঘর, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামিও ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্মরণীয়। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির ঢেউ বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে মৃত্যু ঘটায় ২ লাখের বেশি মানুষের। কিছু এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ৩০ মিটার।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের নেপালের গোর্খা ভূমিকম্পে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার কম্পনে ধসে পড়ে হাজারো ভবন। ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও সামান্য অনুভূত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার সাম্প্রতিক ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প বড় ক্ষতি না করলেও এটি আবারও সতর্ক হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। অতিরিক্ত জনঘনত্ব, দুর্বল অবকাঠামো, অনিয়মিত ভবন নির্মাণ এসবই ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

সে কারণে পরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ, জরুরি প্রস্তুতি ও দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময় এসেছে এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার। ভূমিকম্পকে ঠেকানো সম্ভব না হলেও ঝুঁকি কমানো সম্পূর্ণ আমাদের হাতে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: