শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের ৯০ মিনিট ছাড়িয়ে অর্থনীতির যে মহাযজ্ঞ বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধের অঙ্গীকার মোজতবা খামেনির বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাজিমগঞ্জ বাজারের প্রবীণ মাংস ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ আর নেই পুরনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, কার্যকর আইন আনছে সরকার: আবুল খায়ের ভূঁইয়া ফুলবাড়ীতে আমন চাষে তোড়জোড়, জলাবদ্ধতা থেকে চারা গাছ রক্ষায় দোগাছি তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক গোপালগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা অফিসার উজিরপুরের মোঃ শহিদুল ইসলাম লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গাছের চারা বিতরণ ও ফলজ বাগান উদ্ধোধন কুমিল্লার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার সঙ্গে কামরুল হুদার সাক্ষাৎকার

ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের ৯০ মিনিট ছাড়িয়ে অর্থনীতির যে মহাযজ্ঞ

একটি গোল। কয়েক সেকেন্ডের একটি মুহূর্ত। স্টেডিয়ামে হাজারো মানুষের উল্লাস। টেলিভিশনের পর্দায় কোটি দর্শকের চোখ। আর সেই একটি মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ভিডিও, ছবি, আলোচনা এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার মাধ্যমে।

একসময় বিশ্বকাপের গল্প ছিল শুধু মাঠের। কোন দল জিতবে, কে ট্রফি তুলবে, কোন খেলোয়াড় ইতিহাস গড়বেন—এসব নিয়েই ছিল মানুষের আগ্রহ। কিন্তু আধুনিক বিশ্বকাপ এখন আর শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া অর্থনীতি, যেখানে একসঙ্গে কাজ করছে খেলা, ব্যবসা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, বিপণন এবং কোটি কোটি মানুষের আবেগ।

মাঠে খেলেন ২২ জন ফুটবলার। কিন্তু একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে কাজ করেন হাজার হাজার মানুষ। খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি থাকেন সম্প্রচারকর্মী, প্রযুক্তিবিদ, নিরাপত্তাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, কনটেন্ট নির্মাতা, বিপণন বিশেষজ্ঞ এবং অসংখ্য পেশাজীবী।

এই বিশাল আয়োজনকে ঘিরে তৈরি হয় বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। বিশ্বকাপ এখন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, যেখানে একটি দলের সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতি, একটি দেশের ভাবমূর্তি এবং একটি প্রযুক্তির সক্ষমতা।

একটি গোলের প্রভাব এখন শুধু স্কোরবোর্ডে থাকে না:-

ফুটবলে একটি গোল ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে একটি গোলের প্রভাব আরও অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একটি অসাধারণ গোল, একটি আবেগঘন উদযাপন কিংবা একটি ভাইরাল মুহূর্ত কোনো খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সেটি একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতি, পণ্যের বাজারমূল্য এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আধুনিক ফুটবলাররা এখন শুধু মাঠের খেলোয়াড় নন, তারা নিজেরাই একটি বৈশ্বিক পরিচয়। তাদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, বিজ্ঞাপন, পৃষ্ঠপোষকতা এবং কোটি ভক্তের সঙ্গে সম্পর্ক।

লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, এরলিং হালান্ড কিংবা জুড বেলিংহামের মতো তারকারা শুধু তাদের গোল বা শিরোপার জন্য আলোচিত নন; তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উপস্থিতি, ভক্তদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক মূল্যও বিশ্বকাপ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন খেলোয়াড়ের মাঠের পারফরম্যান্স এখন সরাসরি যুক্ত হচ্ছে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে।

বিশ্বকাপের নতুন শক্তি ডিজিটাল দুনিয়া:

একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখা। এখন সেই অভিজ্ঞতা বদলে গেছে। দর্শক শুধু খেলা দেখছেন না, তারা খেলার অংশ হয়ে উঠছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, ভিডিও তৈরি, খেলোয়াড়দের অনুসরণ এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তরা এখন বিশ্বকাপের সক্রিয় অংশ।

২০২৬ বিশ্বকাপে ডিজিটাল সম্পৃক্ততা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বকাপসংক্রান্ত ভিডিও দেখা হয়েছে ২০০০ কোটির বেশি বার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ৩০০০ কোটি প্রদর্শন এবং ১৭০ কোটির বেশি সম্পৃক্ততা।

নরওয়ের খেলোয়াড়দের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের ভিডিও টিকটকে দেখা হয়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখের বেশি বার। নেইমারের নরওয়ের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানানোর ভিডিও পেয়েছে ৭ কোটির বেশি দেখা।

উদ্বোধনী ম্যাচে শাকিরা ও বার্না বয়ের পরিবেশনাও কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ এখন শুধু স্টেডিয়ামে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমেও প্রতিদিন মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বিশ্বকাপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্বকাপ এখন বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডের জন্য নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর অন্যতম বড় সুযোগ। পৃষ্ঠপোষকতা, অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন এবং বিপণনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ তৈরি করেছে বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামো। একটি ব্র্যান্ড যখন বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেটি বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ফিফা জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের সব বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকতার জায়গা পূর্ণ হয়েছে। ১৬টি বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগের সর্বশেষটিও বরাদ্দ হয়েছে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপের বিশাল পরিসর। ২০২৬ সালের আসরে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০৪টি ম্যাচ। খেলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে। ফিফার প্রত্যাশা, প্রায় ছয় বিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

দর্শক এখন অর্থনীতির অংশ:

বিশ্বকাপের অর্থনীতি শুধু মাঠের টিকিট বিক্রি বা সম্প্রচার স্বত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দর্শকদের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, খাবার, পণ্য কেনা এবং বিশেষ আয়োজনও এই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর পর পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছেন ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮৪ জন দর্শক। আসন ব্যবহারের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিটি ম্যাচে গড়ে উপস্থিত ছিলেন ৬৫ হাজারের বেশি দর্শক। তিন আয়োজক দেশে ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছেন ৭৭ লাখের বেশি মানুষ।

বিশ্বকাপে বিশেষ আতিথেয়তা সেবার বাজারও বড় হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৫০টি বিশেষ আতিথেয়তা প্যাকেজ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ক্রেতা সাধারণ ভক্ত, যারা উন্নত অভিজ্ঞতার জন্য এসব প্যাকেজ নিয়েছেন। আর ৪০ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়িক গ্রাহক।

অর্থাৎ বিশ্বকাপ এখন শুধু খেলা দেখার আয়োজন নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা তৈরির এবং বিক্রির প্ল্যাটফর্ম।

বিশ্ববাজারে পরিচিতির সুযোগ:

বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে শুধু বিজ্ঞাপনের সুযোগ নয়, এটি বৈশ্বিক পরিচিতি তৈরির একটি কৌশলও বটে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ভূমিকা রেখেছিল। চীনা ব্র্যান্ডগুলো এই আসরে প্রায় ১৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ১১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগকেও ছাড়িয়ে যায়।

ওয়ান্ডা গ্রুপ, ভিভো, মেংনিউ এবং হাইসেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বকাপকে ব্যবহার করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে।

অর্থাৎ বিশ্বকাপের মতো আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানে একটি ব্র্যান্ডকে বিশ্বের কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরে। কারণ ফুটবল ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের সীমাকেও অতিক্রম করে।

আয়োজক দেশের জন্য বিশ্বকাপ, সুযোগের সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ:

বিশ্বকাপ আয়োজন একটি দেশের জন্য একই সঙ্গে গর্বের বিষয় এবং বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত। স্বাগতিক দেশগুলো সাধারণত অবকাঠামো, পরিবহন, নিরাপত্তা, স্টেডিয়াম এবং পর্যটন খাতে বড় বিনিয়োগ করে। তবে সবসময় এই বিনিয়োগ সরাসরি আর্থিক লাভে পরিণত হয় না।

কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। অন্যদিকে ২০২৬ সালের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো নতুন করে বিশাল সংখ্যক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো তৈরি করা বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর কৌশল হতে পারে। ফলে বিশ্বকাপ শুধু অর্থ আয়ের বিষয় নয়; এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি, পর্যটন এবং ভাবমূর্তি তৈরির সুযোগও বটে।

প্রযুক্তির বিশ্বকাপ:

আধুনিক বিশ্বকাপ প্রযুক্তি ছাড়া কল্পনা করা যায় না। মাঠের সিদ্ধান্ত, সম্প্রচার, দর্শকের অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার টুর্নামেন্ট ও সম্প্রচার নেটওয়ার্কে ১৩ পেটাবাইট তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। এক লাখ মাইলের বেশি ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে, যা পৃথিবীকে চারবার প্রদক্ষিণ করার মতো দীর্ঘ। এক বিলিয়নের বেশি সাইবার হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।

ফলে প্রযুক্তি এখন শুধু খেলা পরিচালনার সহায়ক নয়, এটি বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান শক্তি।

ফুটবল থেকে কনটেন্ট অর্থনীতি:

বিশ্বকাপ এখন একটি ২৪ ঘণ্টার কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম। একটি ম্যাচের আগে, চলাকালীন এবং পরে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ভিডিও, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার, ছবি এবং ভক্তদের তৈরি কনটেন্ট।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ কোটি ২০ লাখ গল্প ও পোস্ট প্রকাশ হয়েছে, যা তৈরি করেছে ৭০০ কোটি সম্পৃক্ততা।

এখন একটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও তার প্রভাব শেষ হয় না। একটি গোলের ভিডিও, একটি খেলোয়াড়ের মন্তব্য কিংবা একটি ভক্তের প্রতিক্রিয়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় থাকতে পারে।

আগামী দিনের বিশ্বকাপ কোন পথে যাবে:

আগামী দশকে বিশ্বকাপ আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর এবং ডিজিটাল হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা, নতুন ধরনের দর্শক অংশগ্রহণ এবং আরও বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিশ্বকাপের চেহারা বদলে দেবে। তবে একটি বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে, ফুটবলের মূল আকর্ষণ মাঠেই।

গোল, জয়-পরাজয় এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই থাকবে বিশ্বকাপের প্রাণ। কিন্তু সেই মাঠের ৯০ মিনিটের বাইরে যে বিশাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জগৎ তৈরি হয়েছে, সেটিই আধুনিক বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: