বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শামীম আহমেদ জয় ‘মতলব উত্তর (চাঁদপুর) :
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শরীফ উল্লাহ্ হাইস্কুল এন্ড কলেজে এক জেলেকে ধরে এনে বেত্রাঘাত ও জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে।
জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসার সময় সটাকী বাজার সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে একই এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আল-আমিন (২৫) নামের ওই জেলেকে মেয়েটির সাথে কথা বলতে দেখে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য লাদেন সরকার তাকে ধরে স্কুলে নিয়ে আসে। স্থানীয়রা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ’র কক্ষে তাকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় এবং তার নির্দেশে শিক্ষক রুহুল আমিন তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর থেকে আল-আমিন লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবক বলেন, আল-আমিন অন্যায় কিছু করেনি। প্রকাশ্যে কথা বলছিল। এ কারণে তাকে ধরে এনে মারধর ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছে এটা অন্যায়।
আল-আমিনের বড় বোন নার্গিস আক্তার বলেন, আমার ভাই শুধু কথা বলেছে এই কারণে তাকে স্কুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এখন লোকজন তাকেই দোষী মনে করছে। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমার ভাইয়ের কিছু হলে দায়ভার কে নেবে?
এদিকে দাতা সদস্য লাদেন সরকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি লোকমুখে শুনে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাই। পরে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সে আমার স্কুলের ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল। তাই স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে। তাকে কয়েকটি বেত মারা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না এমন লিখিত নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো বিষয় হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি এবং আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, গতকাল আমি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানায়নি। শিক্ষার্থীর বাইরে থাকা কোনো ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ে এনে নির্যাতন করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল এবং এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।