বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
আমরা যে কেউ যে কোনো সময়ে বদনজরের শিকার হতে পারি। বদনজর – যাকে ইংরেজিতে ‘evil eye‘ বলা হয়, এমন একটি বিপদ যার মাধ্যমে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। বদনজর একজন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে, তার জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং এমনকি তার সম্পদ বা পারিবারিক সুখও কেড়ে নিতে পারে।
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বদনজরের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন এবং এর প্রতিকারের জন্য দু’আ ও কুরআনের আয়াত পাঠের নির্দেশনা দিয়েছেন। রুকইয়াহ হলো সেই শক্তিশালী ইসলামিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কুরআনের আয়াত এবং সহিহ হাদিসে বর্ণিত দু’আ পাঠ করে বদনজরের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যদি কোনো ব্যক্তি বদনজরের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থতায় ভোগেন, তবে নির্দিষ্ট কিছু আয়াত বারবার পাঠ করে রুকইয়াহ করা খুবই কার্যকর। এখানে বদনজর থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়াহ করার উপযোগী কিছু কুরআনের আয়াত দেওয়া হলো:
بِسْمِ اللّٰه
আল্লাহর নামে।
اَلْحَمْدُ لِلّٰه وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰه
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর।
أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি যাবতীয় শয়তান, বিষাক্ত জীব এবং যাবতীয় অনিষ্টকর চোখের কুপ্রভাব থেকে।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তার ক্রোধ, শাস্তি, তার বান্দাদের অনিষ্ট, শয়তানদের কুমন্ত্রণা এবং তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكُمْ
আমি মহান আল্লাহ, যিনি আরশে আজিমের প্রভু, তার কাছে তোমাদের সুস্থতা কামনা করছি।
اَللّٰهُمَّ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ اِشْفِ كُلَّ مَحْسُودٍ وَمَعْيُوْنٍ
হে আল্লাহ, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! সকল হিংসাগ্রস্ত ও কুদৃষ্টির শিকার ব্যক্তিকে সুস্থ করে দাও।
أَعُوذُ بِاللّٰهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ هَمْزِهٖ وَنَفْخِهٖ وَنَفْثِهٖ
আমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা, ফুঁক ও মন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাই।
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
الْحَمْدُ لِلَّـهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল সৃষ্টির রব।
الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
যিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।
مٰمَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
যিনি বিচার দিবসের মালিক।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং শুধু আপনারই কাছে সাহায্য চাই।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
আমাদেরকে সরল পথ দেখান।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
তাদের পথ, যাদেরকে আপনি অনুগ্রহ করেছেন।
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ ۖ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বিদ্যুৎ ঝলক যেন তাদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছিলো। যখনই তা তাদের জন্য আলোকিত হয়, তারা তাতে কিছুদূর চলে; আর যখনই তা তাদের উপর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (২০)
وَإِذِ اسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
আর যখন মূসা তার কওমের জন্য পানি প্রার্থনা করলো, তখন আমরা বললাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।’ ফলে তা থেকে বারোটি ঝর্ণা প্রবাহিত হলো। প্রতিটি গোত্র তাদের পান করার স্থান জেনে নিলো। আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে খাও ও পান করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরূপে বিচরণ করো না। (৬০)
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا ۚ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاءُ فَاقِعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ
তারা বললো, ‘আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদেরকে বলে দেন যে এর রং কেমন হবে।’ মূসা বললো, ‘তিনি বলছেন যে, সেটা এমন একটি গাভী, যার রং উজ্জ্বল হলুদ, যা দর্শকদেরকে আনন্দিত করে।’ (৬৯)
وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ ۖ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আহলে কিতাবদের অনেকেই চায় যে, তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফিরে পরিণত করতে, তাদের অন্তরের হিংসার কারণে—তাদের কাছে সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পরেও। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তার নির্দেশ নিয়ে আসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (১০৯)
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا ۚ قَالُوا أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِّنَ الْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ ۖ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তাদের নবী তাদেরকে বললো, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে বাদশাহরূপে পাঠিয়েছেন।’ তারা বললো, ‘আমাদের উপর তার রাজত্ব কীভাবে হতে পারে? আমরা তো তার চেয়ে রাজত্বের বেশি হকদার, আর তাকে তো প্রচুর সম্পদও দেওয়া হয়নি।’ নবী বললো, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তোমাদের উপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞান ও শারীরিক শক্তিতে সমৃদ্ধি দিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে তার রাজত্ব দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।’ (২৪৭)
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তন্দ্রা বা ঘুম তাকে স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তিনি তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, সবই জানেন। আর তারা তার জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ব্যতীত। তার কুরসি আসমান ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এই দুইটির রক্ষণাবেক্ষণ তাকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। (২৫৫)
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
তিনি যাকে চান প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়। আর বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না। (২৬৯)
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে তার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তার উপর ঈমান এনেছেন, আর মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ এবং তার রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে), ‘আমরা তার রাসূলগণের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।’ আর তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।’ (২৮৫)
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কিছুর দায়িত্ব দেন না। যা সে অর্জন করে তা তারই, আর যা সে উপার্জন করে (মন্দ কাজ), তার প্রতিফল তারই উপর বর্তাবে। হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই অথবা কোনো ভুল করি, তবে আমাদেরকে ধরবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার ভার বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আর আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদেরকে মাফ করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে বিজয় দান করুন। (২৮৬)
وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
তোমরা তো মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার আগে তা কামনা করেছিলে; এখন তা নিজ চোখে দেখলে। (১৪৩)
أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَىٰ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۖ فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُم مُّلْكًا عَظِيمًا
নাকি তারা মানুষকে সেই জন্য হিংসা করে, যা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের দান করেছেন? আমরা তো ইব্রাহিমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদেরকে বিশাল রাজত্বও দিয়েছি। (৫৪)
وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنفَ بِالْأَنفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
আর আমরা তাদের জন্য তাতে লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের জন্য সমান বদলা। অতঃপর যে তা ক্ষমা করে দেবে, তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই যালিম। (৪৫)
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ ۖ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
যখন তারা রাসূলের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শোনে, তখন তুমি তাদের চোখ দেখতে পাবে যে, তা অশ্রু প্রবাহিত করে; কারণ তারা সত্যকে চিনতে পেরেছে। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আমাদের সাক্ষ্যদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।’ (৮৩)
لَّا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ ۖ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
কোনো দৃষ্টি তাকে দেখতে পায় না, কিন্তু তিনিই সকল দৃষ্টিকে দেখতে পান। আর তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ। (১০৩)
وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ
এবং সে তার হাত বের করলো, তখনই তা দর্শকদের জন্য উজ্জ্বল সাদা হয়ে গেল। (১০৮)
يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنظُرُونَ
সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পরও তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে, যেন তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আর তারা তা তাকিয়ে দেখছে। (৬)
وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ نَّظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ هَلْ يَرَاكُم مِّنْ أَحَدٍ ثُمَّ انصَرَفُوا ۚ صَرَفَ اللَّهُ قُلُوبَهُم بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ
যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় (এবং বলে), ‘তোমাদেরকে কি কেউ দেখছে?’ এরপর তারা সরে পড়ে। আল্লাহ তাদের অন্তরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা উপলব্ধি করে না। (১২৭)
هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ
এবং তিনি বললেন, ‘হে আমার ছেলেরা! তোমরা সবাই এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আর আমি আল্লাহর কোনো বিধান থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারি না। বিধান কেবল আল্লাহরই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করেছি, এবং ভরসাকারীদের তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত। (৬৭)
وَقَالَ مُوسَىٰ يَا قَوْمِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ
এবং তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন আর বললেন, ‘হায় ইউসুফের জন্য আমার আক্ষেপ!’ আর দুঃখে তার চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি শোক সংবরণকারী ছিলেন। (৮৪)
لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ
তাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীকে আমরা যে ভোগ-বিলাসের সামগ্রী দিয়েছি, তুমি সেদিকে তোমার দু’চোখ প্রসারিত করো না এবং তাদের জন্য দুঃখ করো না। আর তুমি মুমিনদের জন্য তোমার ডানা নত করো। (৮৮)
وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ۚ إِن تَرَنِ أَنَا أَقَلَّ مِنكَ مَالًا وَوَلَدًا
তোমার বাগানে প্রবেশকালে তুমি কেন বললে না, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন (তাই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই!’ যদি তুমি আমাকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে তোমার চেয়ে কম দেখ। (৩৯)
فَفَعَسَىٰ رَبِّي أَن يُؤْتِيَنِ خَيْرًا مِّن جَنَّتِكَ وَيُرْسِلَ عَلَيْهَا حُسْبَانًا مِّنَ السَّمَاءِ فَتُصْبِحَ صَعِيدًا زَلَقًا
সুতরাং আশা করা যায়, আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমার বাগানের উপর আকাশ থেকে এক কঠিন আঘাত পাঠাবেন, ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে। (৪০)
فَعَسَىٰ رَبِّي أَن يُؤْتِيَنِ خَيْرًا مِّن جَنَّتِكَ وَيُرْسِلَ عَلَيْهَا حُسْبَانًا مِّنَ السَّمَاءِ فَتُصْبِحَ صَعِيدًا زَلَقًا
তারা বললো, ‘তাকে মানুষের চোখের সামনে নিয়ে এসো, যাতে তারা দেখতে পায়।’ (৬১)
وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ
আর আমরা তো দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছি এবং তারা দু’জন বললো, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তার অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’ (১৫)
وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ
আর সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হলো এবং বললো, ‘হে মানবজাতি! আমাদেরকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং আমাদেরকে সবকিছুই দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’ (১৫)
وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
এবং আমরা তাদের সামনে একটি প্রাচীর ও তাদের পেছনে একটি প্রাচীর তৈরি করেছি, অতঃপর তাদেরকে ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না। (৯)
فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٌ
অতঃপর তিনি নক্ষত্ররাজির দিকে একবার তাকালেন এবং বললেন, ‘নিশ্চয় আমি অসুস্থ।’ (৮৯)
فَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَسْفَلِينَ
অতঃপর তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার ইচ্ছা করলো, কিন্তু আমরা তাদেরকে হীন করে দিলাম। (৯৮)
يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
চোখের গোপন দৃষ্টি এবং অন্তর যা গোপন করে, তিনি তা জানেন। (১৯)
أَفَلَمْ يَنظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِن فُرُوجٍ
তারা কি তাদের উপরের আকাশের দিকে তাকায়নি, আমরা কীভাবে তা নির্মাণ করেছি ও সজ্জিত করেছি এবং তাতে কোনো ফাটল নেই? (৬)
فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ
অতঃপর তারা তাদের রবের আদেশ অমান্য করলো, ফলে তাদেরকে বজ্রপাত আঘাত করলো, আর তারা তা তাকিয়ে দেখছিল। (৪৪)
وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَىٰ أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ
এবং আমরা ভূমি থেকে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করলাম, অতঃপর পানি একত্রিত হলো সেই কাজের জন্য, যা নির্ধারিত ছিল। (১২)
فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
সে দুটি জান্নাতে আছে দুটি উচ্ছলিত ঝর্ণা। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (৬৬,৬৭)
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
তাহলে যখন প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে যায় এবং তোমরা তখন তাকিয়ে দেখছ। (৮৪)
الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ
যিনি সাত আসমানকে স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম দয়াময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। সুতরাং তুমি চোখ ফিরিয়ে দেখো, কোনো ফাটল দেখতে পাও কি? (৩)
ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ
অতঃপর তুমি চোখ আবার দু’বার ফিরিয়ে দেখো, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। (৪)
فَاجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَجَعَلَهُ مِنَ الصَّالِحِينَ
অতঃপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। (৫০)
وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ
যারা কুফরী করে, তারা যখন উপদেশ শোনে, তখন তারা যেন তাদের হিংসুক দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছাড় মেরে ফেলে দেবে এবং তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই সে তো পাগল।’ (৫১)
وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ
অথচ এই কুরআন তো শুধু বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ। (৫২)
يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ
كَلَّا لَا وَزَرَ
যখন দৃষ্টি চমকিত হবে, এবং চাঁদ জ্যোতিহীন হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদকে একত্রিত করা হবে, সেদিন মানুষ বলবে, ‘কোথায় পালাবার জায়গা?’ (৯,১০)
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ
إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
সেদিন কিছু চেহারা হবে সতেজ, তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। (২২,২৩)
عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا
একটি ঝর্ণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে, তারা সেটিকে যেখানে ইচ্ছা প্রবাহিত করবে। (৬)
عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّىٰ سَلْسَبِيلًا
সেখানে একটি ঝর্ণা আছে, যার নাম সালসাবিল। (১৮)
تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ
যেদিন প্রকম্পনকারী বস্তু প্রকম্পিত হবে, তার পেছনে অনুসরণকারী আসবে। সেদিন অনেক অন্তর বিচলিত থাকবে, তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনমিত থাকবে। (৭)
فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ
তাতে আছে একটি প্রবাহিত ঝর্ণা। (১২)
أَيَحْسَبُ أَن لَّمْ يَرَهُ أَحَدٌ
সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখেনি? (৯৭)
وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ
আমরা কি তাকে দুটি চোখ দেইনি? আর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট? আর আমরা তাকে দুটি পথ (ভালো ও মন্দ) দেখিয়েছি। (১০)
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
বলো, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়।
اللَّهُ الصَّمَدُ
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
এবং তার সমকক্ষ কেউ নেই।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
বলো, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের কাছে।
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
এবং রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়।
وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
এবং গ্রন্থিতে ফুঁকদানকারিনীদের অনিষ্ট থেকে।
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
বলো, আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাই।
مَلِكِ النَّاسِ
মানুষের অধিপতির।
إِلَٰهِ النَّاسِ
মানুষের উপাস্যের।
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
যে কুমন্ত্রণাদাতা আত্মগোপনকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে।
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
রুকইয়ার এই আয়াতগুলো নিয়মিত পাঠ করা এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা বদনজর থেকে সুরক্ষার একটি শক্তিশালী উপায়। যদি কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের কেউ বদনজরে আক্রান্ত হয় বলে মনে করেন, তবে এই আয়াতগুলো বারবার পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা বা গোসল করা যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।