শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শেয়ারবাজারে দরপতনের চাপ যেন থামছেই না। গত সপ্তাহের বড় ধসের পর আজ ৭ ডিসেম্বর, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও বাজার লাল সংকেতেই লেনদেন শুরু করেছে। পাঁচ কার্যদিবস মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মোটে ১৪২ পয়েন্ট নিচে নেমেছে, যেখানে এর আগের পাঁচ দিনে সূচক বেড়েছিল ১৫৯ পয়েন্ট। টানা পতনের এই ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
লেনদেন খরা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। আজ রবিবার ডিএসইতে লেনদেন নেমে এসেছে ২৬৭ কোটি টাকায়—যা গত ১৫ জুনের পর সব থেকে কম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে, কমেছে সব সূচকই। লেনদেন শুরুর পর কিছুটা উত্থান দেখা গেলেও আধাঘণ্টা পরই বাজার ফের নিম্নমুখী হয়ে যায় এবং দিনের শেষ পর্যন্ত একই ধারা চলে।
ডিএসইতে আজ ১১০ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০৯টির এবং অপরিবর্তিত ৬৮টি। ভালো কোম্পানির মধ্যেও চাপ স্পষ্ট; ৫২টির দাম বাড়লেও ১২৩টির দাম কমেছে। মাঝারি কোম্পানির ২৪টির দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৪টির কমেছে। ‘জেড’ গ্রুপে ৩৪টির দাম বেড়েছে, আর ৪২টির কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ডেও একই চিত্র—৩৫টির মধ্যে ১১টির দাম কমেছে।
মূল্য সূচকেও পতন অব্যাহত। ডিএসইএক্স আজ ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৭২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক নেমেছে ৩ পয়েন্টে, ডিএসই–৩০ সূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশন—১৭ কোটি টাকার লেনদেন। এরপর আছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ (১১.৫৩ কোটি) এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং (৮.৮৯ কোটি)। শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী তালিকায় ছিল মিডল্যান্ড ব্যাংক, বিডি থাই ফুড, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সিমটেক্স, লাভেলো আইসক্রিম, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ফাইন ফুডস।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র। সিএএসপিআই কমেছে ৬২ পয়েন্ট। অংশ নেওয়া ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯টির দাম কমেছে, বেড়েছে মাত্র ৩৭টির। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য বেশি।
ব্রোকারেজ হাউসের এক কর্মকর্তারা বলেন, বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন না। যাদের হাতে শেয়ার আছে, তারাও দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। সূচক পড়ছে, লেনদেন পড়ছে—ফলে ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে।
গত সপ্তাহেই চার দিন পতনে কাটায় বাজার থেকে উধাও হয়েছিল ৭ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার মূলধন। এই সপ্তাহের শুরুতেও একই পরিস্থিতি দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। চিত্রটা স্পষ্ট—বাজার এখন আস্থাহীন, চাপে, এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না।