বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
শেরপুরে বিএনপি নেতার ওপর সশস্ত্র হামলা, ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে কৃষদল নেতার ওপর বিএনপি নেতার হামলা গোপালগঞ্জে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নড়াইলে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত মুন্সীরহাটে আধুনিক জবাইখানা উদ্বোধন, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহে নতুন উদ্যোগ কাপ্তাই লেকে গোসল করতে নেমে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু কালিগঞ্জে কৃষাণীদের মাঝে ক্ষুদ্র বীজ উদ্যোগের প্রারম্ভিক খরচের চেক বিতরণ আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফনের সময় জানালো ইরান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ একনেকে ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

রমজানে সীমিত ক্লাস ও ছুটি কমানো-শৃঙ্খলিত পাঠদানে ভারসাম্যের প্রয়োজন

নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশের পর যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের শিক্ষা বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আনে। নতুন তালিকায় ১২ দিন ছুটি কমানো ও রমজানের অর্ধেক সময় ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের একাংশের আপত্তি তৈরি করলেও শিক্ষা প্রশাসনের যুক্তি-সিলেবাস শেষ করা ও কার্যকর পাঠদানের দিন বাড়ানো। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার-শনিবার মিলিয়ে বছরে ১০৪ দিনের সাপ্তাহিক বন্ধের সঙ্গে তালিকাভুক্ত ৬৪ দিন যোগ হলে মোট ছুটি দাঁড়ায় ১৬৮ দিন। পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ ৩৬ দিন, বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, বই বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে আরও কিছু দিন ব্যয় হওয়ায় বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ক্লাসের দিন ১৫০ দিনের নিচে নেমে আসে।

এমন প্রেক্ষাপটে ছুটি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ অযৌক্তিক নয়-বিশেষ করে পোস্ট-প্যান্ডেমিক শিক্ষাঘাটতি ও শেখার ঘাটতি পূরণের চাপে। তবে রমজানে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক উদ্বেগও গুরুত্বহীন নয়। গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ উপবাস ও সময়সূচির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষা প্রশাসনের প্রত্যাশা-সীমিত পরিসরে ও পরিকল্পিতভাবে ক্লাস চালু থাকলে পাঠ্যসূচি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল মিলতে পারে। এখানে মূল প্রশ্নটি ছুটি বেশি না কম- তা নয়; বরং, সিদ্ধান্তটি কতটা বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিলেবাস পূরণ কেবল ক্যালেন্ডার সংকোচনের মাধ্যমে সম্ভব হয় না; প্রয়োজন মানসম্মত পাঠদান, যুক্তিসঙ্গত মূল্যায়ন, এবং সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা। রমজানে সীমিত ক্লাস চালুর ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত সময়ের ক্লাস ও নমনীয় সময়সূচি করা যেতে পারে। এছাড়াও ভারী মূল্যায়ন বা চাপমুখী পাঠ এড়িয়ে পুনরাবৃত্তি ও সহায়ক শেখায় গুরুত্ব।

পাশাপাশি শিক্ষক-অভিভাবক- প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত আলোচনার সুযোগ তৈরি। এ ছাড়া ছুটি কমানোর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের ভিড়, সহায়ক শিক্ষাবিষয়ক অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ-এসব ক্ষেত্রেও উদ্যোগ না নিলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলবে না। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে নীতিনির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রয়োজন সংবেদনশীলতা ও অংশীজনের আস্থা। শিক্ষা ক্যালেন্ডারকে শৃঙ্খলিত করা সময়ের দাবি-তবে তা হতে হবে যুক্তিসঙ্গত, মানবিক ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রমজানসহ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান রেখে শেখার দিন বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা যেন শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর শেখার মানোন্নয়নেই কেন্দ্রীভূত থাকে-সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: