শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

‘ক্রিকেট এখন রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি, জয় শাহ তো কখনো ব্যাটই ধরেনি’

ভারত থেকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানোর অনুরোধকে ঘিরে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক বিসিবি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এসিসি প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক। কুয়ালালামপুর থেকে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্রিকেট এখন রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে।

আশরাফুল হক বলেন, ‘ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—সব জায়গার ক্রিকেট ব্যবস্থাই রাজনীতিবিদদের হাতে হাইজ্যাক হয়ে গেছে। একটু ভেবে দেখুন। জগমোহন ডালমিয়া, আই এস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এনকেপি সালভে বা এন শ্রীনিবাসনের মতো লোকেরা দায়িত্বে থাকলে কি এমন হতো? কখনোই না। তারা পরিণত মানুষ ছিলেন। তারা খেলাটা বুঝতেন। তারা এর প্রভাবও বুঝতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পুরো বিষয়টাই দখল হয়ে গেছে। এমন লোকেরা ক্ষমতায় আছে, যারা কখনো ব্যাট ধরেনি। আপনাদের ক্ষেত্রে জয় শাহ। তিনি কখনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ব্যাটই ধরেননি।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এরপর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেট প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানেও একই অবস্থা। সরকার চালাচ্ছে এমন লোকেরা, যারা রাজনীতিবিদও না, আবার খেলাধুলায় অভিজ্ঞও না। আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ভারত যাবে না। ভাবুন তো। এটা বিশ্বকাপ। এটা আইপিএল না। আইপিএল ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এখানে এমন হঠকারী কথা বলা যায় না।’

প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আশরাফুল বলেন, ‘মোস্তাফিজুর বদলে যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতো, তাহলে কি তারা একই কাজ করত? করত না। এটা রাজনীতিবিদদের সস্তা ধর্মীয় অনুভূতির খেলা।’

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিকেও এই সংকটের জন্য দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘অপরিণত রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় এলে এমনই হয়। পশ্চিমবঙ্গ আর আসামে নির্বাচন আছে। তাই ভোটের জন্য রাজনৈতিক কার্ড খেলছেন। আর বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টকে ঝুঁকিতে ফেলছেন।’

সমাধান হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর প্রস্তাব দেন আশরাফুল হক। তিনি বলেন, ‘যদি শ্রীলঙ্কায় সরানো যায়, তাহলে সবার জন্যই উইন-উইন হবে। যদি না পারে, তাহলে বাংলাদেশ ভারত গিয়ে খেলবে কি না, আমি সন্দিহান।’

আইসিসি অনুরোধ না মানলে আর বাংলাদেশ সরকার দল না পাঠালে আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হয়তো আর্থিক ক্ষতি হবে। কিন্তু জাতীয় মর্যাদা আর্থিক ক্ষতির চেয়ে অনেক বড়।’

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশি এই পেসারকে তারা ৯.২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল। এরপর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অন্তর্বর্তী সরকার আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তার কথা বলে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয়, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল ভারতে পাঠাবে না।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা বিশ্বকাপ। বিসিবি ইতোমধ্যে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ করেছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত। এর মধ্যে প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। আইসিসির জবাবের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: