সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ :
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে তথ্য হালনাগাদের কথা বলে এক সাংবাদিককে অফিসে ডেকে নিয়ে অত্যন্ত অশালীনভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক লিটন শিকদার। তিনি ‘দৈনিক করতোয়া’ পত্রিকার কাশিয়ানী উপজেলা প্রতিনিধি এবং কাশিয়ানী সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিটন শিকদার জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বালিয়াডাঙ্গা ৪১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য হালনাগাদের কথা বলে তাঁকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। তিনি সরল বিশ্বাসে সেখানে উপস্থিত হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ চঞ্চল শেখ তাঁর সাথে চরম অশালীন, অবমাননাকর ও পেশাগত শিষ্টাচারবিরোধী আচরণ শুরু করেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ছিল পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সেখানে আগে থেকেই প্রায় ২৫ জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে জড়ো করে রাখা হয়েছিল। শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং তাঁদের সরাসরি উসকানিতে সবার সামনে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আজ মানোন্নয়নের পরিবর্তে ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক স্বৈরাচারিতা জেঁকে বসেছে। শিক্ষকদের জিম্মি করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নৈতিকতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে কাশিয়ানির সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-২০১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।