বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
জয়নুল আবদিন ফারুককে সতর্ক করল বিএনপি যুদ্ধের মাঝেও স্বাভাবিক তেহরানের জনজীবন বৃহস্পতিবার বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকার শূন্যতা ও নতুন এমপিদের ভিড়ে ব্যতিক্রম হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে কামরুল হুদার আবেদন গোপালগঞ্জে দুর্যোগ মোকাবিলা ও ভূমিকম্প সচেতনতায় বর্ণাঢ্য মহড়া অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে নারী নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সমান কন্ঠস্বর নিশ্চিত করণে অবহিতকরণ সভা নড়াইলে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে মুন্সীগঞ্জে ইফতার ও দোয়া মাহফিল কালিয়াকৈরে প্রতিপক্ষের গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ

স্পিকার শূন্যতা ও নতুন এমপিদের ভিড়ে ব্যতিক্রম হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের পর এখন বসতে যাচ্ছে নতুন সংসদ। আগামী ১২ মার্চ এই সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। সে হিসেবে এই সংসদের মেয়াদ থাকবে ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকারি দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রীতি অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। একই অধিবেশনে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

কেন ব্যতিক্রম হতে পারে এই সংসদ

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এক সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী সংসদের স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার দায়িত্বে থাকেন। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এর পরপরই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। আর তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ফলে বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার অবস্থায় নেই।

সংবিধান অনুযায়ী এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি অথবা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন কিছুটা ব্যতিক্রমী হতে পারে।

 

নতুন এমপিদের আধিক্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন সদস্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন।

অর্থাৎ প্রায় ৭৬ শতাংশ এমপি প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। সংসদ গবেষকদের মতে, এত বেশি নতুন সদস্য থাকার কারণে সংসদের কার্যপ্রণালী, বিধিবিধান ও আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নিয়ে গবেষণা করছেন।

 

তিনি বলেন,
“এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। অনেকেরই সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। তাই কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।”

 

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

সাধারণত সরকারি দল থেকেই এই দুটি পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। তবে এবার বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ফলে এই পদে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণত সংসদের বৈঠকে স্বল্প সময়ের বিরতি দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করান।

শপথ শেষে সংসদের বৈঠক আবার শুরু হয় এবং নবনির্বাচিত স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

 

রাষ্ট্রপতির ভাষণ

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাষ্ট্রপতির ভাষণ।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদের স্পিকার ও সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এরপর স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত লিখিত হয় এবং আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত থাকে। এই ভাষণে নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও নীতিমালার পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ের নানা বিষয়ও উঠে আসে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর বৈঠক মূলতবি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

তথ্যসূত্র: BBC News বাংলা


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: