শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মিরাজ হোসেন (৪০) হত্যাকান্ডের ঘটনার দুইদিন পরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ হত্যা ঘটনার মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় বালু মহাল কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে গুলি ও কুপিয়ে মিরাজ হোসেন(৪০) কে হত্যা করা হয়। তিনি পাবনা সদর উপজেলার চর সাহাদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তেওতা বালু মহালের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার দুইদিন পর নাটকীয়ভাবে রবিবার রাতে বালু মহালের ঠিকাদার কাউছার আলম খান বাদী হয়ে নতুন করে অভিযোগ দিয়ে শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় চর অঞ্চলের বাসিন্দাদের তথ্য সূত্রে জানা যায়,আলোকদিয়ার দুর্গম চরাঞ্চলে বালু মহালের আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের কারণেই এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চরবাসির মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মিরাজ হোসেন দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে নিহত মিরাজের পরিবারের লোকজন সাথে সাথে ছুটে আসেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপর থেকে নিহত মিরাজের পরিবারের পক্ষ থেকে (৩ এপ্রিল) ঘটনার দিনই মামলার প্রস্তুতি নেন। নিহতের এক আত্মীয় নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক,এই প্রতিবেদককে জানায়,পরিবারের পক্ষে নিহত মিরাজের মেজ ছেলে জিহাদ লিখিত অভিযোগটি স্বাক্ষর করে থানায় এন্টি করায়। তারপরে তাদের সকল কার্যক্রম শেষ করে নিজ এলাকা পাবনায় চলে আসেন। কিন্তু তারা চলে আসার পরেই একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের টাকা ও ক্ষমতার দাপটে নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগটি থানা পুলিশকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে দেয়নি বলে জানা যায়।এখান থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন নাটকীয়তা,প্রভাবশালী মহলের সাথে দেন-দরবার শেষে স্থানীয় বালু মহালের ঠিকাদার কাউছার আলম খান হত্যাকান্ডের দুইদিন পর নিজে বাদী হয়ে নতুন করে অভিযোগ করে শিবালয় থানায় গত (৫-ই এপ্রিল) রবিবার রাতে একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করান।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন,মিরাজের মূল হত্যাকারীদের আড়াল করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। মিরাজের হত্যাকাণ্ডে স্থায়ীয় একটি সশস্ত্র চক্র সক্রিয় ছিল। নিহত মিরাজ এই সশস্ত্র চক্রটিকে প্রতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চাঁদা দিতেন,মিরাজ কয়েক সপ্তাহে চাঁদার টাকা না দেওয়াতে আর অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে বালু বিক্রির টাকা ভাগাভাগির বিরোধ চলছিল। অন্যদিকে মিরাজের সাথে স্থানীয় শামীম ফকির নামের এক লোকের ঝামেলাও চলছিলো বলে জানা যায়। এক লেবার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন,মিরাজ ভাই তখন ড্রেজার এ বসে টাকার হিসাব নিকাশ করছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ করে স্পিডবোটে করে ৪-৫ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা এসে প্রথমে এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ভীতির সৃষ্টি করেন। তারপরে ড্রেজারে উঠে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিরাজকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে চর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
নিহতের পরিবারের দাবি,কে বা কাহারা মিরাজকে হত্যা করেছে আমরা কাউকে চিনি না। তবে স্থানীয় বালু ব্যবসা ও চাঁদার টাকা না দেওয়া কারণেই মূলত মিরাজকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার প্রশাসনের নিকট অভিযোগ রেখে বলেন,মূল আসামিদের আড়াল করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ঘটনার দুইদিন পর বিভিন্ন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কাউসার আলমের নতুন করে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। নিহত মিরাজুলের বড় ছেলে তারেক অভিযোগ করে বলেন,(৩ এপ্রিল)শুক্রবার আমরা খবর পেয়ে ঘটনার দিনই আমাদের পরিবারের সকলেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই, ও আমার আব্বুর মৃত্যুর ব্যাপারে শিবালয় থানায় একটি (অজ্ঞাতনামা) কারোও নাম ছাড়াই অভিযোগ দিয়ে আমরা চলে আসি। অজ্ঞাতনামা অভিযোগের কারণ হিসেবে নিহতের ছেলে তারেক বলেন,আমার আব্বুকে কে বা কাহারা মেরেছে আমরা কেউ জানিনা, যেহেতু আমরা সেখানে থাকি না। তাই অজ্ঞাতনামা অভিযোগ দিয়েছি,পুলিশ তদন্ত করে বের করবে কারা আব্বুকে মেরেছে। কিন্তু আমাদের অভিযোগকে পুলিশ এজাহার ভুক্ত করেননি।ঘটনার দুইদিন পরে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু মহালের ইজারাদার কাউসার আলম খান টাকা ও ক্ষমতার জোরে নিজে বাদী হয়ে নতুন করে পাঁচজনকে ও আরোও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিবালয় থানা পুলিশ (৫ এপ্রিল) রাতে মামলাটি রেকর্ড করেন। তার বাদী হওয়ার ব্যাপারে আমাদের বলেও নাই আমরা কিছুই জানিনা। আমরা যে অভিযোগটি করেছিলাম সেখানে কারো নাম উল্লেখ করি নাই, অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম।
নিহত মিরাজের ছেলে আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ঘটনার দিনই অভিযোগ করেছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের অভিযোগকে মামলা হিসাবে রেকর্ড না করে,পুলিশ নতুন করে কাউসার আলমকে বাদী বানিয়ে মামলা রেকর্ড করে। যেহেতু ঘটনাস্থলে কাউসার আলমও ছিল না,তাহলে তাকে বাদী করেন কিভাবে? আমার আব্বু ওনার সঙ্গে কাজও করতেন না। উনি কিভাবে মামলার বাদী হয়? উনার কি বাদী হওয়ার এক্তিয়ার আছে? বাদী হলে হবে নিহতের রক্তের ভাই,ছেলে অথবা স্ত্রী। ঘটনার দিন থানায় তখন আমাদের পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিলাম। আমার মনে হয় নিশ্চয়ই আমার আব্বুর খুনের বিষয়ে ঠিকাদার কাওসার আলমের ও তার লোকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তা না হলে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে আমরা যে অভিযোগটি করেছিলাম সেই অনুযায়ী মামলা নথিভুক্ত হইলে পুলিশ তদন্তে নামলেই কাউসার আলম ও তার লোকজন ফেঁসে যেতেন এই ভয়ে, কাওসার আলম উনার টাকার জোরে ক্ষমতার দাপটে এবং আমার আব্বুর মৃত্যুর সুযোগে উনি ওনার যারা শত্রু আছে তাদেরকে ফাসাঁনোর জন্যই আসামি করেছে। আমি মামলার কপি পড়েছি,সেখানে সিরাজগঞ্জের লোকদের আসামি করা হয়েছে। তাদেরকে আমরা চিনিনা জানিনা আমার আব্বু আমার আর আমার আম্মার কাছে যেখানেই যেতেন বলে যেতেন। আব্বু কোথায় কি করতেন আমরা জানতাম। আর সেখানে সিরাজগঞ্জের লোক এসে আমার আব্বুকে মারবে কিভাবে? তাদের সাথে আমার আব্বুর কোন শত্রুতা ও ছিল না। তবে আব্বুর সাথে কাউসার আলমের লোক শামিম ফকিরের সাথে একটা স্পিডবোট নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। এ নিয়ে আমার আব্বু বেশ কিছুদিন ভয়ে ভয়ে থাকতেন এবং ওখানে গেলে পালিয়ে পালিয়ে যেতেন। আব্বু ওখানে যেতেন লিটন নামের একজন লোকের ভরসায় আর লিটন আমার আব্বুকে নিতো ওখানে কাজ করার জন্য। ঘটনা স্থলে আমার আব্বু সহ তিনজন ছিল আমরা শুনেছি জাহাঙ্গীর নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা পুলিশ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে যাই কিন্তু কাউকে পাই নাই,পরে শুনি জাহাঙ্গীর নামের ওই ভদ্রলোক আহত হয় নাই। তাই আমি সর্বশেষ কথা বলব যে, কেন আমাদের অভিযোগটি পুলিশ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেননি? আমি আবারও বলছি,আমরা অজ্ঞাতনামা অভিযোগ দিয়েছি। কাউসার আলম নিজে অভিযোগ দিয়ে বাদী হয়ে পরবর্তীতে মামলা করলো কেন? যেসব আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আমরা কাউকে চিনি না জানি না। এটি যদি পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করেন,তবে আমার মনে হয় নিরপরাধ কোন ব্যক্তির এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। নিরপেক্ষ তদন্ত করে আমার বাবার প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি করছি।
স্থানীয় চরাঞ্চল বাসিন্দারা বলেন,যমুনা নদীর আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভায়রণ্য হিসেবে বর্তমানে পরিচিতি। আমরা চরাঞ্চলের মানুষ আমাদের মাঝে সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে এই যমুনা নদীতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বাল উত্তোলন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। তাই আমরা নদীপাড়ের মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাইতেও পারি না কারণ কখন বসতবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সব সময় আমাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। আমরা চরবাসী বিভিন্ন প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা দেখছি না। প্রশাসনও মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযান চালিয়ে যায় জরিমানাও করেন। আর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিনিয়ত অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে এবং সাংবাদিকরা যদি তথ্য সংগ্রহ করতে আসে তাদের উপরও সশস্ত্র হামলা চালায় দুষ্কৃতীকারীরা। খবর পেলে প্রশাসনের লোকজনও আসেন কিছু কিছু অপরাধীদের আটক করে নিয়ে যায়। তারপরেও এরা বেপরোয়া ভাবে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ আমরা এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
বিশ্লেষকদের ও অভিজ্ঞ মহলের মতে মিরাজ হত্যাকান্ডে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু মহলের অবৈধ বালু উত্তোলনের একাধিক সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্রের মধ্যে বিরোধ হিসেবে দেখছেন। এঘটনায় আন্তঃজেলা সংগঠিত চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা অনেকের।
অনুসন্ধান বলে সংগঠিত অপরাধচক্রের চিত্র
ঘটনাস্থল অনুসন্ধান ও স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে গোপনীয়তার ভিত্তিতে কথা বলে জানা যায়, আলোকদিয়া চর এবং সংলগ্ন দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য একটি কার্যত “নিয়ন্ত্রণহীন অর্থনৈতিক অঞ্চল”জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সীমিত উপস্থিতির সুযোগে এখানে একাধিক সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্র সক্রিয় রয়েছে। সংগঠিত চক্র যমুনা নদী কেন্দ্রিক এ অঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন,পরিবহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছে। এসব চক্র নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহায়তা গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি,একটি’গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। নিহত মিরাজ হোসেনও প্রতি সপ্তাহে চাঁদা দিতেন। আরোও অভিযোগ রয়েছে,নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার বাদী না দিয়ে অন্য এক ব্যক্তি বাদী হয়,তিনি নিজেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষক বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাপর সংঘর্ষ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক সহিংস সংঘর্ষ ঘটেছে,তবে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এই প্রথম। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক প্রভাবের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব চক্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবও পরিবর্তিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়; বরং এটি অবৈধ অর্থনীতি,সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সম্মিলিত প্রতিফলন যা জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুতর সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল ও দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠী।
মিরাজ হত্যাকান্ড ও অভিযোগের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন,মিরাজ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা মামলা নিয়েছি, ঘটনার দিন নিহতের পরিবার অভিযোগ দিয়েছিল। অন্য লোক বাদী হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন,ঠিকাদার কাউসার আলম এখানকার বালু মহালের সবকিছু জানেন ও কারা কারা বালু উত্তোলন করেন কারা কারা ঠিকাদারি করেন। এ অঞ্চলের কাওছার আলম সব খবর রাখে সে ক্ষেত্রে সেই ভালো বলতে পারবে পুলিশের তদন্ত করতে সুবিধা হবে।আর মিরাজ সব সময় কাওছার আলমের সাথে টাচে ছিলেন। নিহতের ছেলে তার বাবা কোথায় কাজ করেন কার সাথে কাজ করেন সেখানের পরিবেশ পরিস্থিতি কিরকম কিছু জানে না। এবং তার ছেলেটারও বয়স কম আমরা তার ছেলেকে খবর দিয়ে এনেছিলাম তাদের সাথেও কথা বলেছি। তবে এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সূত্র নিয়ে কাজ করছি, এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সমন্বয়ে আমরা তদন্ত করছি,আমরাও চাই স্বচ্ছ নিরপেক্ষ তদন্ত মাধ্যমে পুলিশ মূল আসামিদের শনাক্ত এবং হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবে। কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানি স্বীকার না হয় এটিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি।