বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ করসপন্ডেন্ট নড়াইল :
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরমঙ্গলহাটা গ্রামে বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম (৭০) হত্যা মামলার ২ বছর পার হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন বা আসামি গ্রেফতার হয়নি। প্রথমে মামলাটি লোহাগড়া থানা পুলিশের তদন্তাধীন থাকলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্ত ভার পায় সিআইডি। তবে এখোনো হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি সিআইডি। আদেও হত্যার বিচার হবে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার রাম নারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরীর সন্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নিহতের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী রবিউল ইসলামসহ উপস্থিত এলাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিন মতবিনিময় সভায়, মামলার বাদী রবিউল ইসলামের চাচা সিদ্দিকুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ, মো.খায়রুজ্জামান ডাবলু, খিজির আহমেদ, টিএম শফিকুল ইসলাম সবুজ, প্রদীপ চৌধুরীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৪ সালের ১১ মে (শনিবার) দিবাগত রাতে পাঁচ সন্তানের জননী রিজিয়া বেগম নড়াইলের চর মঙ্গলহাটায় নিজ বাড়িতে প্রায় সময়ে একাই থাকতেন। ঘটনার দিন তার ছেলে রবিউল ইসলাম রাত ১০টার দিকে বাড়ি গিয়ে দেখতে পান রিজিয়া যেখানে শুয়ে ছিলেন, তার পাশের জানালার সঙ্গেই গলায় ফাঁস লাগানো রয়েছে। বাড়িতে রিজিয়া বেগম ছাড়া তেমন কেউ না থাকার সুযোগে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নেয় দুর্বুত্তরা অভিযোগ স্বজনদের।
এ ঘটনার পরেরদিন রোববার (১২ মে) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠালে তার ময়নাতদন্তে শেষ হয়। পরেদিন সোমবার (১৩ মে) নিহতের ছেলে রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে থানা পুলিশের তদন্তে ৬ মাসের বেশি সময় পর হলেও মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পরে একই বছরে পিবিআই বা সিআইডির অধীনে তদন্ত চান মামলার বাদী। বাদীর আবেদনের পরিপেক্ষিতে পরে মামলাটি সিআইডি নড়াইলকে তদন্তভার দেয়া হয়।
মামলার বাদী ও নিহত রিজিয়া বেগমের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, মামলার ২ বছর পার হলেও আমার মায়ের হত্যাকারী শনাক্ত এবং চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার বা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আমার বাড়িতে অজ্ঞাত চোরেরা ৪ টি সিসি ক্যামেরা ও বিদ্যুতের তারসব অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া ফ্যান চুরি করে চোরেরা তবে এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দিলেও চোর শন্তাক্ত বা মালামাল উদ্ধার হয়নি।
হত্যার ঘটনায় নড়াইল জেলা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, রিজিয়া হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি নিহতের বাড়িতে চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।