শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, শেখ তুহিনের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০ জুন (বুধবার) দুপুরে ‘প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জ’-এর উদ্যোগে শহরের প্রেসক্লাব ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিক সমাজ এই অন্যায় মেনে নেবে না। বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, শেখ তুহিনের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এসব অবৈধ সম্পদের উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, কখনো হবেও না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এর পেছনে থাকা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরমান খান জয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— মো. জুবায়ের হোসেন, শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, আরিফুল হক আরিফ, মামুনুর রশিদ জুয়েল, পলাশ শিকদার, আরিফুল রশিদ, মেহেদী হাসান এবং বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।