রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলের মজলিসে শূরার বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
দলের নেতারা বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ওই জোটের কার্যকারিতাও শেষ হয়েছে। যদিও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় জোটের কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল, এখন থেকে জোটের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবেন।
দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সরকারের সমালোচনা করে দলের নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তাদের দাবি, গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তারা আরও বলেন, জুলাই ও শাপলা হত্যাকাণ্ডসহ ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তির’ বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।