বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
মোংলা (বাগেরহাট) থেকে মোঃ নূর আলম : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় ৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ও গাছের পরিচর্যা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF)-এর অর্থায়নে নবলোক পরিষদ বাস্তবায়িত “Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (GCF-RHL)” প্রকল্পের আওতায় ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে মোংলার শেলাবুনিয়া নবলোক পরিষদের কার্যালয় চত্বরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় শেষ ধাপে চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের ১০৩ জন নির্বাচিত উপকারভোগীর মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযূষ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী, ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য, ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর কো-অর্ডিনেটর এবং Waterkeepers Bangladesh-এর কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ নূর আলম শেখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন GCF-RHL প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, উপকারভোগী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীযূষ রায় বলেন, উপকূলীয় মোংলা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাড়ির আঙিনা ও বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের ফলে একদিকে যেমন বসতভিটার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ফল ও কাঠজাত সম্পদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অতিরিক্ত আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি উপকারভোগীদের শুধু চারা গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যথাযথভাবে রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং গাছগুলোকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এই জনপদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সুন্দরবনের প্রতিবেশ রক্ষা এবং উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, শুধু চারা বিতরণ করলেই কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত হয় না; বরং রোপণ করা প্রতিটি গাছকে যত্নের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখাই প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি। উপকূলবাসীকে সুন্দরবনের প্রকৃতির রক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেন বলেন, GCF-RHL প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অতিদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং তাদের জন্য জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই জীবন-জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষের পরিচর্যা এই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, বসতভিটার নিরাপত্তা এবং উপকারভোগীদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বিতরণকৃত চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার জন্য উপকারভোগীদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় উপকারভোগীর প্রত্যেককে ১০টি করে চারা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত গাছের মধ্যে রয়েছে ২টি নারিকেল, ২টি সুপারি, ২টি সফেদা, ২টি কদবেল ও ২টি নিমগাছের চারা। এছাড়া চারা গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার সুবিধার্থে প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২৭ গজ করে ব্লু-নেট সরবরাহ করা হচ্ছে।
নবলোক পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে GCF-RHL প্রকল্পের আওতায় মোট ৩২ হাজার ৭১৫টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আরও ৫ হাজার চারা ও কলম বিতরণ করা হয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় নবলোক পরিষদ কর্তৃক মোট ৩৭ হাজার ৭১৫টি চারা ও কলম বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৫,৩১১জন।