বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালতের নির্দেশে ক্রোক হওয়া গোপালগঞ্জের ১০ তলাবিশিষ্ট ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর গোবরা নীলামাঠ সংলগ্ন এলাকায় ভবনটির দায়িত্ব বুঝে নেন দুদকের কর্মকর্তারা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত রিসিভার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার ও উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন। ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ভবনের ৩০টি ফ্ল্যাট ইউনিট, একটি লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গৃহস্থালি আসবাবপত্র।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ বিষয়ে পৃথক আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ১৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ভিত্তিতে ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়।
দুদকের ঢাকা-০১ কার্যালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারির একটি মামলার (মামলা নং-৪৩) পরিপ্রেক্ষিতে সম্পত্তিটি ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। ভবনটির মূল মালিক শেখ মোহাম্মদ ইকরাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর শ্যালক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মালিকপক্ষ। ভবন মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদের দাবি, ফিলিপাইনে বসবাসরত দুই ভাইয়ের বৈধ রেমিট্যান্সের অর্থে স্বর্ণা টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোনো কালো টাকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, আদালতের ক্রোক আদেশ বা রিসিভার নিয়োগের বিষয়ে তাদের আগে জানানো হয়নি। মঙ্গলবার দুদকের নোটিশ পাওয়ার পরদিনই ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই রিসিভার দল ভবনটির সার্বিক দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে। এখন থেকে ভবনের আয়-ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।