শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সফল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা আর্থিক অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া মাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গঠিত স্বাধীন কমিশন জানিয়েছে যে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা মোট ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে এবং চূড়ান্ত পরিণতি পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
কয়েক বছর ধরে চলা এই তদন্তের পেছনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও জটিল। প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে তদন্ত কাজ পরিচালনার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ গঠন করা হয়। মূলত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছরের আর্থিক লেনদেন এবং নানা অনিয়মের বিষয়গুলো এই অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর আগে ২০২০ সালে উয়েফার আর্থিক ফায়ার প্লে নীতিমালা ভঙ্গের দায়েও ক্লাবটি অভিযুক্ত হয়েছিল এবং সে সময় তাদের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ম্যানচেস্টার সিটি তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে এবং তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। ক্লাবটির একজন মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের এই আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিষ্পত্তি হওয়া বাকি আছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে আসছে এবং তারা আশা প্রকাশ করেছে যে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। রায়ের পর ক্লাব চাইলে উচ্চতর ফোরামে আপিল করতে পারবে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে বেশ ভালো ছন্দে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরোয়া লিগে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও গত দুই মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও এর আগে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে তারা অন্যতম সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাঠের বাইরের এই আইনি জটিলতা এবং আর্থিক অনিয়মের রায়ের প্রভাব ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও সুনামের ওপর কেমন পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।