মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বঙ্গোপসাগরে নজরদারি করবে ৪ স্যাটেলাইট, কীভাবে কাজ করবে এ ব্যবস্থা? ‘আর্জেন্টিনা ছাড়ার সময় মেসি কতটা কষ্ট পেয়েছিল, তা সবাই দেখেছি’ প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়’, সাবেক ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ শিবালয়ের উলাইল ইউনিয়নের থেকে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কার্যক্রম উদ্বোধন উজিরপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স তরুণ ও পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করছে বিদ্যুৎ বিভাগ চৌদ্দগ্রামে আগুনে যুবদল নেতার বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লক্ষাধিক টাকা পূজা মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস এমপি কে এম বাবরের, চালু হচ্ছে বন্ধ কালিপূজার মেলা দুর্গাপূজায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধসহ ১৬ নির্দেশনা

দুর্গাপূজায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধসহ ১৬ নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন নৌরুটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট ১৬টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মূলত পূজার ছুটির সময়ে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এসব নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাগুলো বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

জারি করা নির্দেশাবলীতে নৌযানের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিটি লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ, নৌযান বা ফেরি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের বেলা সব ধরনের স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি দিনের বেলাতেও স্পিডবোটগুলো নদীর মাঝখান দিয়ে চালাতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এতে চলাচলকারী প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা রোধে শুধুমাত্র নির্ধারিত টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সদরঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নদীর মাঝনদীতে লঞ্চের সঙ্গে ছোট নৌকা বা ট্রলার ভিড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হবে উদ্ধারকারী জাহাজ। প্রধান নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করে নৌযান চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টার্মিনাল এলাকার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সদরঘাটসহ বিভিন্ন নৌ টার্মিনালের পন্টুন ও চত্বরে হকার কিংবা ক্যানভাসারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবেশপথে প্রতিটি নৌযানের নির্দিষ্ট রুট ও পন্টুনের বিবরণ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অবৈধ পার্কিং রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারি বেঁধে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ফেরিতে ওঠার পূর্বে চালক বাদে অন্য সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিতে হবে। নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শৌচাগার, নিরাপত্তা এবং বিশ্রামের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি নৌযানে সহজে দৃশ্যমান স্থানে চারটি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিসের ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ডের ১৬১১১ নম্বর। এছাড়া আবহাওয়া সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য ১০৯০ অথবা নির্দিষ্ট দুটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকি ও এসব নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে নৌপথে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: