মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে বিশ্ববাসীর আরও জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে মূলত মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ যে বহুমুখী জটিলতার মুখে পড়েছে, সে বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আলোচনাকালে মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও এর নেতিবাচক প্রভাবের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘ বিশেষ দূত জুলি বিশপ জানান যে, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক যোগাযোগ ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কারণে এই বিশাল জনসংখ্যার বোঝা বহন করে আসছে, যা এখন দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। তাই এই সংকট কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
উভয় পক্ষের বৈঠকে সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ল্যান্ডমাইনের বিপজ্জনক উপস্থিতি, সীমান্ত পেরিয়ে মানবপাচার এবং মাদকের অবৈধ কারবারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রম আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আলোচনা হয়। এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন এবং সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
সবশেষে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমি রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিবেশ তৈরির জন্য রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রাখাইন রাজ্যে স্থায়ী শান্তি ও অনুকূল পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত এই সংকটের প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয় বলে বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়। উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এবং ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।