শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের কথা বলছেন, ঠিক সেই সময়েই অঞ্চলটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের ভেতরের একাধিক সূত্র এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিবর্গের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই পদক্ষেপের পেছনে বড় কোনো ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান, কাতার এবং কুয়েতের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই অঞ্চলগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সীমিত সংখ্যক সেনাকে ঘাঁটিতে বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রাক্কালেও পেন্টাগন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় একই ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বেশ মিলে যায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানে হামলার ঠিক আগে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা সরিয়ে নিয়েছিল পেন্টাগন। সে সময় এই সেনা সদস্যরা বেসামরিক হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনে আশ্রয় নেওয়ায় তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল। তবে বর্তমান সেনা সরানোর বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জোরদার করার জন্য নিয়মিতভাবেই সেনাদের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়ে থাকে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
সেনা সরানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকেও অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে এই কূটনৈতিক কর্মী প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ সংবেদনশীল অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এড়াতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট অতিরিক্ত কর্মী প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে ভিত্তিহীন ও ভুল বলে দাবি করেছেন, তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।