সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধের দশদিন পর বুধবার (৩০ জুলাই) রাত পৌণে ৮টায় শুরু হওয়া তৃতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদিত ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ইউনিটটি সচল রাখতে প্রতিদিন এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন।
তৃতীয় ইউনিট চালু হলেও একই দিন সকালে বয়লারের পাইপ ফেটে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ৪ বছর ৮ মাস ধরে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২নং ইউনিটি বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা অবস্থায় ২নং ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো।
জানা যায়, ২১ জুলাই ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি এবং দুপুর ১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ২২ জুলাই রাত ১২ টার দিকে ১নং ইউনিটটি চালু করা হয়। চালু অবস্থায় ১নং ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৬০-৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ১নং ইউনিটটি সচল রাখতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩নং ইউনিট চালু এবং ১নং ইউনিট বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ১নং ইউনিটটি চালু করতে অন্তত তিন থেকে চারদিন সময় লেগে যাবে। তবে ৩নং ইউনিট চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার চাহিদা পুরোটাই পূরণ হচ্ছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা দিয়ে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর নির্ভর করেই ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন ও চালু রয়েছে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালু রেখে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন, কিন্তু এখন পর্যন্ত পর্যন্ত তিনটি ইউনিট একই সঙ্গে সচল রাখা সম্বব হচ্ছে না।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বলছেন, ১৩০৫ নং কোল ফেইসের মজুদ কয়লা শেষ হওয়ায় ২৩ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নতুন ১৪০৬ নং কোল ফেইসে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে, আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।