বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয় বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধির সাক্ষাৎ জ্বালানি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার ওয়াদুদ খান আর নেই নড়াইলের লোহাগড়ায় চুরির প্রতিবাদে মানববন্ধন সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে দালাল ও চোর চক্র খাদিজার দৌরাত্ম্য বেপরোয়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে পানিসম্পদ মন্ত্রী মাদক ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল নির্মাণ শ্রমিকের, উত্তেজনায় জ্বলল দুই বাড়ি উজিরপুরে দিনে দুপুরে বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি, প্রায় ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট

গোপালগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ফি আদায়ে ক্ষোভ

শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “বিনামূল্যে শিক্ষা” কর্মসূচির সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে গোপালগঞ্জে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদরের উলপুর ক্লাস্টারের ২৮টি এবং সাহাপুর ক্লাস্টারের ৩৬টি—মোট ৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ফি আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার বলছে বিনামূল্যে শিক্ষা, অথচ বাস্তবে সন্তানদের পরীক্ষায় বসাতে টাকা দিতে হচ্ছে। না দিলে স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে বাচ্চাদের হয়রানি করে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন, তারা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশেই টাকা নিয়েছেন। কেউ কেউ কৌশলে ফি নয়, অনুদান হিসেবে অর্থ সংগ্রহের কথা জানান।

এ বিষয়ে উলপুর ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু আহমেদ বলেন, “হ্যাঁ, আমি টাকা নিতে বলেছি, তবে সেটা ফি নয়, অনুদান।” তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার এমন নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র বালা জানান, তিনি এ বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জোছনা খাতুন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “এটা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিষয়।”

তবে অভিযোগ পাওয়ার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন এবং সাংবাদিকদের অনিয়ম উন্মোচনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, “যেখানে সরকারের নির্দেশেই বিনামূল্যে শিক্ষা, সেখানে প্রকাশ্যে ফি আদায় হলে আগামী প্রজন্ম কোন পরিবেশে বড় হবে? প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ অনিয়ম বন্ধ হবে না।”
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: