রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ সাতটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী ও পুরুষসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টার বাড়ি এলাকায়। শনিবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মোঃ সবুজের সাথে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রেজাউল করিমকে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া মারধর করে।
এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি মিমাংশার জন্য উভয় পক্ষ চেষ্টাচালালে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া দলবল নিয়ে ওই এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে সাতটি বাড়িঘর ভাংচুর করে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে মোঃ রেহান, রেজাউল হকের ছেলে মো. রিফাত, একই এলাকার সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ফাতেমা আক্তার, সাত্তার মিয়ার ছেলে সবুজ (২৫), নুর হোসেনের ছেলে শাহাদাতসহ অন্তত ৮-১ জন আহত হয়।
স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া দল ক্ষমতায় থাকাকালিন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাঁর অত্যাচারে তৎকালিন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাচ্চু মিয়া হঠাৎ করে বোল পাল্টিয়ে জামায়াতকে সমর্থন করে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে শুরু করে। শুক্রবার রাতে তাঁর নেতৃত্বে ওই গ্রামে দফায় দফায় হামলা চলে এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ভাংচুর করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ার আহাম্মদ, বড় বাড়ির হারুনুর রশিদ, মোছলেম মিয়ার বাড়ীঘর।
এসময় নারী-পুরুষসহ এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠে। রাত ৮টায় সংঘর্ষ শুরু হলেও দফায় দফায় সংর্ঘষটি রাত ১২টা অতিক্রম করে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। তাছাড়া আমি কখনো যুবলীগ করিনি’। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।