শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
মো. আবদুল আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আলিম পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াহিদুল ইসলাম নামে এক পরীক্ষার্থী। তিনি চরজুবিলী রব্বানীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টায় সুবর্ণচর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ওয়াহিদুল ইসলাম এবং তার বাবা, চরজুবিলী রব্বানীয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের আলিম পরীক্ষায় ৬২৮ নম্বর চরজুবিলী পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাবশত তার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) আটকে রাখেন। ফলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৯১৮৬৮১৯২১।
ওয়াহিদুলের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি গত ২৬ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। তার দাবি, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদের ঘটনায় তাদের পরিবারকে সন্দেহ করা হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চরজুবিলী রব্বানীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “ওয়াহিদুল ইসলাম আমার কাছে আসেনি। পরীক্ষার আগের রাতেই আমি অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের কাছে অ্যাডমিট কার্ড দিয়ে দিয়েছি। তার কাছেও ওয়াহিদুল যায়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।