বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

তামিম একাই ৩৩৪* নাফীস-রিয়াদ-শুভ মিলে ৩২০

তামিম ইকবাল ২৯০ এর ঘরে ঢুকলেন শুভাগত হোমকে বাউন্ডারি মেরে। এরপর শান্ত তিনি। পরের ওভারে মোস্তাফিজকে আরেকটি বাউন্ডারি মেরে ২৯৮। এবং শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে আবার স্ট্রাইকে। শুভাগতকে ওভারটা মেইডেন দিলেন। ফিজের পরের ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বল পর্যন্ত ডট। প্রতিপক্ষ তখন বেশ একটা ছাতার মতো তৈরি করে তামিমের ৩০০ ঠেকাতে মরিয়া। পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির গৌরবের পাতায় ঢুকে পড়েন বাঁহাতি ওপেনার।

বিসিএলের এই প্রথম রাউন্ডে মিরপুরে খেলাটা চলছে মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে। পূর্বাঞ্চলের তামিম ২২২ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে লাঞ্চের পর যখন দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন, তখন প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান রকিবুল হাসান মাঠেই ছিলেন। ছুটে এসে অভিনন্দন জানান তামিমকে। তিনশর কীর্তিতে তামিমকে মাঠের বাইরে থেকে অভিনন্দন জানান তখন দেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, নির্বাচক ও বিসিবি কর্তারা। প্রতিপক্ষের সব খেলোয়াড়ও মাঠে তামিমকে অভিনন্দনে সিক্ত করেছেন।

তামিম শেষ পর্যন্ত ৩৩৪ নট আউট। ৫৮৫ মিনিট ক্রিজে থেকে ৪২৬ বলে এই কীর্তি। ৪২টি চারের পাশে ৩ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস। ৩০০ করেছেন ৪০৭ বলে, ৫৬০ মিনিটে। চারের মার ৪০টি। পূর্বাঞ্চল ২ উইকেটে ৫৫৫ রানে করেছে প্রথম ইনিংস ঘোষণা। ৩৪২ রানের লিড নিয়ে। দিনের বাকিটা সময়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৫ তুলেছে মধ্যাঞ্চল। তামিমের এমন কীর্তির ম্যাচে জয়ের আশা করতেই পারে পূর্ব। ওদিকে, চট্টগ্রামে এদিন ঘটেছে তিনটি সেঞ্চুরির ঘটনা। দক্ষিণাঞ্চলের শাহরিয়ার নাফীস (১১১), শামসুর রহমান (১০৯) ও মাহমুদউল্লাহ (অপরাজিত ১০০) হাঁকিয়েছেন শতক। ৩ উইকেটে ৩৯৮ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ৪৫৪ রান তাড়া করতে নেমে বিনা উইকেটে ২২ রান তুলে দিন শেষ করেছে উত্তরাঞ্চল।

কিন্তু সব ছাপিয়ে এদিন আলোচনায় তামিম ইকবালের ট্রিপল সেঞ্চুরি। ট্রিপলের টার্গেট নিয়ে এদিন শুরু তার। খুব স্বচ্ছন্দে এগিয়েছেন। সুযোগ দেননি কোনো। তবে কতটা সতর্ক ছিলেন তা বোঝা যায় এই তথ্যে যে তার ইনিংসের তিনটি ছক্কার প্রতিটি ট্রিপলের পর।

২০০৭ সালে রকিবুল জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ফতুল্লায় ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওটাই এতদিন ছিল এ দেশের একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ দেশে একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরিটি করেছিলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (৩১৯), ২০১৪ সালে। শুভাগতকে ছক্কা হাঁকিয়ে তামিম সেটা পেরিয়েছেন। বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও এখন তার। এছাড়া বাংলাদেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭ টি চার মারার রেকর্ড এতদিন ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের। জাতীয় লিগে ২৮৪ রানের ইনিংসে সে কীর্তি ছিল তার। তামিম ওটাও নিজের করে নিয়েছেন। ওপেনার হিসেবে বিসিএলেই লিটন কুমার দাসের আছে ২৭৪ রানের ইনিংস। সেটাও টপকেছেন তামিম।

২৭৯ রানে লাঞ্চে গিয়েছিলেন। ফিরে তামিম দ্রুত কাক্সিক্ষত ট্রিপল করে ফেলেন। তারপর আরও আগ্রাসী। শেষটায় শুভাগতকে ছক্কা হাঁকানোর পরের ওভারে সোহরাওয়ার্দী শুভকে এক ওভারে দুই ছক্কা হাঁকান। শেষ বলের ছক্কাটির পর ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। ফেরার পথে দুপাশে দাঁড়িয়ে পথ করে দেওয়া সতীর্থদের গার্ড অব অনার পান তামিম। তার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৯৭ রানের জুটি গড়া ইয়াসির রাব্বি ৬২ রানে থাকেন অপরাজিত।

এদিন ফার্স্ট ক্লাসে ৭ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়ে গেছেন তামিম। ওদিকে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শাহরিয়ার নাফীস পেরিয়েছেন ৮ হাজার রানের মাইলস্টোন। এই ওপেনার প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়েছিলেন। এবার ২৫১ বলে ১২ চারে ১১১ রানে অপরাজিত। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তার। ২২২ বলে ১১ চারে ১০৯ রান করা শামসুর রহমান পেয়েছেন ১৯তম সেঞ্চুরির দেখা। পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। টি-টোয়েন্টি স্টাইলে করেছেন হার না মানা সেঞ্চুরিটা। ৭০ বলে ঠিক ১০০ করেছেন ৫টি ছক্কা ও ৮টি চারে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মধ্যাঞ্চল : ২১৩ ও ১১৫/৩ (সাইফ ৩৩, সৌম্য ৪, শান্ত ৫৪, রকিবুল ১৬*, শহিদুল ৭*, নাঈম/২৩৬)। পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৫৫৫/২ ডিক্লে. (তামিম ৩৩৪*, ইয়াসির ৬২*)।

দক্ষিণাঞ্চল : ২৬২ ও ৩৯৮/৩ ডিক্লে. (নাফীস ১১১, শামসুর ১০৯, মাহমুদউল্লাহ ১০০*)। উত্তরাঞ্চল : ২০৭ ও ২২/০।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি