মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

শীতের আগমন বেলায় আকর্ষীক বন্যা হাতীবান্ধায় প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: আকর্ষীক বন্যায় তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস ভেঙ্গে ভাটিতে ভয়াবহ বন্যায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় নদী কবলিত ৬ টি ইউনিয়নে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার সার্বিক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

জানাগেছে, মঙ্গলবার রাতে উজান থেকে নেমে পানি তিস্তা নদীতে বৃদ্ধি পায় এবং ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ফলে বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজে বিপদ সীমার ২০ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় পানির প্রবল তোড়ে ফ্লাড বাইপাস ভেঙ্গে যায় এবং ভাটিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় ফলে গড্ডিমারী, সিঙ্গীমারী, সির্ন্দুনা,পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী সহ ৬টি ইউনিয়নে ২০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। অসংখ্য পাকা রাস্তা, মাটির বাধ ভেঙ্গে যায়। ঘড়বাড়ী শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির উঠতি ফসল আমন ধান ও সদ্য রোপিত রবি মৌসুমিয় ফসল ভুট্টা, আলু, বাদাম,মরিচ,শরিষা ক্ষেতের ফসল ডুবে যায় এবং সর্ম্পুন রুপে ক্ষতি সাধন হয়। এ ক্ষতি কৃষক কুলের অপুরোনীয় ক্ষতি হয়েছে যাহা কোন ভাবে পুরোন করা সম্বব হবে না।

এছাড়াও ঘড়বাড়ী গবাদি পশু ১০ টি নৌকা সহ রক্ষিত যাবতীয় মালামাল ও অগণিত বিদুৎ এর খুটি, ব্রীজ, কালভাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে বিজ্ঞমহল ধারনা করছে। বুধবার ইউএনও সামিউল আমিন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরির্দশন শেষে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতি গ্রস্থ পরিবারের জন্য সরকারী ভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় ৮০ মে. টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং পরর্বতী বরাদ্দ চেয়ে ক্ষতির তালিকা পাঠানো হয়েছে ।

এ সময় ইউপি চেয়াম্যানেরা জানান, উক্ত বরাদ্দ ক্ষতির তুলনায় অত্যান্ত নগন্য হলেও জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাদ্দ কৃত ত্রান প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এ দিকে সিঙ্গীমারী ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু এ প্রতিনিধি কে জানান, বর্ষা মৌসুম বিদায়ও শীতের আগমন বেলায় যে আর্কষীক বন্যা এ বন্যায় সর্বচ্চ ক্ষতি সিঙ্গীমারী ইউনিয়নে হয়েছে।

তিনি বলেন তিস্তা ব্যারেজের প্রবাহিত পানি ভাটিতে সরাসরি সিঙ্গীমারী ইউনিয়নের ধুবনী মৌজার ১, ২ ও,৩ নং ওয়ার্ডের উপরে হানা দেয়। তিনি বলেন, এ বন্যায় তিনটি ওর্য়াডে ৬/৭ শত হেক্টোর জমির আমন ধান, আলু ভুট্টা,গম,বাদাম,সরিষা,মরিচ,পিয়াজ সহ বিভিন্ন ফসল ও ৫ শ মিটার পাকা রাস্তা,১২ শ মিটার কাচা রাস্তা মাটির বাধ, ব্রীজ, কালভাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান,শতাধিক ঘড় বাড়ী,অগণিত বিদ্যুৎ এর খুটি ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ বন্যায় ১০ টি নৌকা ভেসে নিখোঁজ হয়ে গেছে। এসব ক্ষতি অপুরোনীয় ক্ষতি কোনদিন পুরোন করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি